নানুবাড়ির স্মৃতি আর ‘দুধভাত’ ফুরানোর বয়সে নস্টালজিক ফারিণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় মনের গভীরের কথাগুলো যখন চমৎকার ছন্দে প্রকাশ পায়, তখন তা মুহূর্তেই নাড়া দেয় হাজারো মানুষের হৃদয়। সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল তাসনিয়া ফারিণ তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শৈশব ও নানুবাড়ি নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন। তাঁর সেই ছোট্ট লেখাটি যেন প্রতিটি মানুষের শৈশবের না বলা স্মৃতির এক নিখাদ প্রতিচ্ছবি।
তাসনিয়া ফারিণ তাঁর স্ট্যাটাসে লিখেছেন—
“ছোটবেলার নানু বাড়িটা এখনো আগের মতোই। রঙিন বাড়ি শুধু রঙটা একটু ফিকে, শান বাঁধানো ঘাট তবে এক সিঁড়ি জল বেশি, জাম্বুরা গাছে এবার ফলন ভালো, মাটির পুরনো গন্ধ সবই আগের মতো। শুধু নেই কোলাহল, অট্টহাসি আর সেই পুরনো ক্রিকেট ম্যাচ। কারণ এখন দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ।”
‘দুধভাত’ শব্দটির সাথে আমাদের শৈশব, নমনীয়তা এবং পরম আদরের এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। পরিবারে ছোট বা কমবয়সী বলে যাকে কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই সব ছাড় দেওয়া হতো, সেই আদরের দিনগুলোকে আমরা একসময় বলতাম ‘দুধভাত’। কিন্তু জীবন যখন নিজের নিয়মেই সামনে এগিয়ে চলে, কাঁধে এসে ভর করে দায়িত্বের পাহাড়, তখন ফুরিয়ে আসে সেই দুধভাত থাকার সুদিনগুলো।
গ্রামের বাড়ি বা নানুবাড়ি হলো এমন এক অদ্ভুত জায়গা, যেখানে বয়স বাড়লেও মানুষ এক লহমায় আবার সেই ছোট্ট শিশু হয়ে উঠতে চায়। তাসনিয়া ফারিণের স্ট্যাটাসটি ঠিক এই চিরন্তন সত্যটিকেই খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় সামনে নিয়ে এসেছে। চারপাশটা আজ বদলে গেছে যে উঠোনে দুপুরবেলা ভাইবোনদের নিয়ে হইচই হতো, আজ সেখানে কেবলই পিনপতন নীরবতা।
যে পুকুরঘাটে সারাদিন কেটে যেত, সেখানে এখন আর ছিপ ফেলে বসে থাকার মতো সেই চেনা মুখগুলো নেই। একে একে বড় হওয়া, জীবিকার টানে শহরে থিতু হওয়া কিংবা সময়ের নিষ্ঠুর ব্যবধানে সেই অট্টহাসিগুলো আজ কেবলই মধুর স্মৃতি।
এই পরিবর্তন কেবল একটি নির্দিষ্ট বাড়ির নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের জীবনযাত্রার এক অনিবার্য রূপান্তর। আমরা বড় হয়েছি, কাজের ব্যস্ততায় জীবনকে গণ্ডিবদ্ধ করেছি। শৈশবের সেই কাঁচা মাটি, প্রথম বৃষ্টির ভেজা গন্ধ আর পুকুরঘাটের হাওয়া আমাদের আজও স্মৃতিকাতর করে, কিন্তু চাইলেও আর সেই সোনালী দিনে ফিরে যাওয়া যায় না।
তাই তো নানুবাড়ির ফিকে হয়ে যাওয়া রঙ কিংবা এক সিঁড়ি বাড়িয়ে দেওয়া পুকুরের জল আমাদের কেবল নস্টালজিকই করে না, বরং মনে করিয়ে দেয় সময় বয়ে গেছে, আর আমাদেরও এখন বড় হওয়ার পূর্ণ বয়সে দাঁড়িয়ে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো হয়তো আর আর ফিরে আসবে না, তবে হৃদয়ের অ্যালবামে জমে থাকা এই মায়াবী স্মৃতিটুকুই আমাদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রশান্তি।

ফিচার ডেস্ক