অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে বাংলাদেশের জয় উপহার
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ী ম্যাচ। মঞ্চও তৈরি ছিল। দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে সেই মঞ্চ রাঙালেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। জোড়া সেঞ্চুরিতে নাম লেখালেন ইতিহাসে। সেই সঙ্গে অধিনায়ককে উপহার দিলেন জয়। আজ শুক্রবার সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল লাল-সবুজের দল। সেই সঙ্গে সমাপ্তি হলো মাশরাফি বিন মুর্তজার অধিনায়কত্বের অধ্যায়।
সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সিলেটে জিম্বাবুয়ের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন লিটন দাস। সেঞ্চুরিসহ খেলেছেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। দুর্দান্ত খেলেছেন তামিমও। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছেন সেঞ্চুরি। মাঝে বাগড়া বাধায় বৃষ্টি। দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর বৃষ্টি থামলে খেলা নেমে আসে ৪৩ ওভারে। তাতে অবশ্য সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। তামিম-লিটনের তাণ্ডবে নির্ধারিত ৪৩ ওভারেই তিন উইকেটে ৩২২ রান সংগ্রহ করে মাশরাফির বাংলাদেশ।
বৃষ্টি আইনে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩ ওভারে ৩৪২ রান। সেই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২১৮ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ১৭৬ রান করেন লিটন। অন্যদিকে তামিম ১২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
সিলেটের আকাশ সকাল থেকেই কিছুটা মেঘলা। উইকেটে বাড়তি বাউন্স পাওয়ার আশায় টস জিতে আগে বোলিং নেয় জিম্বাবুয়ে। তবুও বাংলাদেশের ছন্দ ভাঙতে পারেননি সফরকারী বোলাররা। আগে ব্যাট করতে নেমে তামিম-লিটনের ব্যাটে ভালো শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বল থেকেই দেখেশুনে খেলেছেন তাঁরা। পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার মিলে তোলেন ৫৩ রান।
এরপর ৫৪ বলে হাফসেঞ্চুরি স্পর্শ করেন লিটন। ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্থ ফিফটি। অন্যদিকে ৫০ ছুঁতে তামিমের লেগেছে ৬০ বল।
হাফসেঞ্চুরির পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন লিটন। ইনিংসের ৩৩তম ওভারের পঞ্চম বলে উইলিয়ামসকে অফসাইডে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ডানহাতি এই ওপেনার। ১১৪ বলে তাঁর শতরানের ইনিংসটি সাজানো ১৩ বাউন্ডারি দিয়ে। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি।
এর মধ্যে ওপেনিং জুটিতে রেকর্ড গড়েন তামিম-লিটন। ওপেনিং জুটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন দুজন। তাতে ভেঙে যায় ২১ বছর আগে মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনের আগের সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড।
লিটনের সেঞ্চুরির পরপরই সিলেটে বৃষ্টি নামে। এরপর দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে ম্যাচটি বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৭ ওভার কমে আসে। বৃষ্টির পর ব্যাট করতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকান তামিম। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি। এরপর নির্ধারিত ৪৩ ওভারে ৩২২ রান করে বাংলাদেশ।
১৭৬ রানে রেকর্ড গড়ে আউট হন লিটন। এই রান করার পথে তামিমকে টপকে বাংলাদেশের সেরা রান সংগ্রাহক হয়ে যান ডানহাতি ওপেনার। ওয়ানডেতে গত ১১ বছর ধরে তামিমই ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তামিম।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২১৮ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন সিকান্দার রাজা। ৬১ রান করেন তিনি। এ ছাড়া ৪২ রান করেন মাধাভেরে।
বল হাতে মাশরাফি নেন একটি উইকেট। সাইফউদ্দিন নেন সর্বোচ্চ চার উইকেট। সমান একটি করে নেন মুস্তাফিজ ও আফিফ।
বাংলাদেশ : ৪৩ ওভারে ৩২২/৩ (তামিম ১২৮, লিটন ১৭৬, মাহমুদউল্লাহ ৩, আফিফ ৭; মুম্বা ৮-০ ৬৯-৩, টিসুমা ৬-১-৪৮-০, টিরিপানো ৮-০-৬৫-০, সিকান্দার ৭-০-৬৪-০, উইলিয়ামস ৯-১-৪৬-০)
জিম্বাবুয়ে : ২১৮/১০ ( মারুমা ৪, চাকাভা ৩৪, সিকান্দার ৬১, উইলিয়ামস ৩০, মাধাভেরে ৪২, টেইলর ১৪, মুতুম্বামি ০, মুতুবুজি ৭, টিরিপানো ১৫, মুম্বা ৪, টিসুমা ০, মাশরাফি ৬-০-৪৭-১, সাইফউদ্দিন ৬.৩-০-৪১-৪, মিরাজ ৮-০-৪৭-০, মুস্তাফিজ ৬-০-৩২-১)
ফল: ১২৩ রানে জয়ী বাংলাদেশ
সিরিজ: ৩-০ ব্যবধানে জয়ী বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক