অভিজ্ঞ সালাউদ্দিনের বিপক্ষে মানিক কি পারবেন?
বাংলাদেশ ফুটবলের বড় নাম কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দেশ ও ক্লাব জার্সিতে মাঠ মাতানোর পর কোচ হিসেবে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া চেষ্টা করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে মাঠের তারকা হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অভিভাবক।
তিন মেয়াদে ইতোমধ্যে ১২ বছর বাফুফের নেতৃত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন সালাউদ্দিন। এবার চতুর্থবারের মতো নেতৃত্বের ভার নিতে লড়বেন তিনি। অভিজ্ঞ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে এই পদে নির্বাচনে লড়বেন ফুটবলের আরেক পরিচিত মুখ শফিকুল ইসলাম মানিক।
আগামীকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে বাফুফে নির্বাচন। দীর্ঘ এক যুগ ধরে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব ধরে রাখা শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনে আসা নতুন মুখ মানিক পেরে উঠবেন কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
গত এক যুগে যত পরিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রতিফলন খুব কমই করতে পেরেছেন সালাউদ্দিন। বরাবরের মতো এবারও নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনবারের বাফুফে সভাপতি। নির্বাচনী ইশতেহারে দিয়েছেন ৩৬টি প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশকে ফিফা র্যােঙ্কিংয়ে ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা।
অবশ্য এর আগে বাংলাদেশকে ফিফা বিশ্বকাপ খেলানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন সালাউদ্দিন। কিন্তু বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, উল্টো ফিফা র্যানঙ্কিংয়ে তাঁর সময়েই বেশি অবনমন হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবলের। এ ছাড়া ইশতেহারে জাতীয় ফুটবল দল, ঘরোয়া ফুটবল, নারী ফুটবল, উন্নয়ন প্রকল্প ও বিভিন্ন টেকনিক্যাল দিকগুলোর উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন সালাউদ্দিন। পাশাপাশি বাফুফের দুটি টার্ফের নতুন করে সংস্কার, মিডিয়া সেন্টার নির্মাণ ও বাফুফে ভবনে আধুনিক জিম স্থাপনসহ লম্বা ঘোষণা দিয়েছেন সালাউদ্দিন।
নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষকে বার্তা দিয়ে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমি তিনবার নির্বাচন করেছি। তিনবারই প্রমাণ দিয়েছি। যাঁরা সরে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের বলব নির্বাচন করে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করুন।’
এত বছরে ফুটবলের উন্নয়নে চোখে পড়ার মতো কিছুই করতে পারেননি সালাউদ্দিন। এর জন্য দেশের ফুটবল ভক্তদের কাছে বেশ সমালোচিত তিনি। তবুও নির্বাচনী মঞ্চে এবারও হ্যাভিওয়েট প্রার্থী তিনিই। নির্বাচনে শক্ত প্রতিপক্ষ না থাকায় এই লড়াইয়ে সালাউদ্দিনের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
সালাউদ্দিনের মতো মাঠের তারকা ছিলেন মানিকও। এবার নির্বাচনের মঞ্চে সালাউদ্দিনকে হারানোর চ্যালেঞ্জে নেমেছেন তিনি। সালাউদ্দিনের ৩৬টি প্রতিশ্রুতির বিপরীতে মানিকের প্রতিশ্রুতি ২১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ২০৩৩ সালে শক্তিশালী অলিম্পিক দল গড়ে অলিম্পিক গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। নির্বাচনে জিততে পারলে জেলা ফুটবল ও পাইওনিয়ার লিগ থেকে প্রিমিয়ার পর্যন্ত লিগ টুর্নামেন্টকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আয়োজন করার লক্ষ্য তাঁর। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু-তনয় শেখ জামালের নামে প্রতিবছর অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা এবং পাতানো খেলা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন মানিক।
অভিজ্ঞতা ও শক্তির বিচারে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন সাবেক এই ফুটবলার। তাঁর ভাষায়, ‘নিজের তাগিদ থেকেই নির্বাচনে এসেছি, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকব।’
তবে শেষ পর্যন্ত শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে মানিক টিকে থাকতে পারেন কি না, সেটাই দেখার। গত ১২ বছর বাফুফের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করা বাদল রায়েরও একই পর্দে নির্বাচন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাম প্রত্যাহার না করায় ভোটের ব্যালটে নাম থাকবে বাদল রায়ের। সব মিলিয়ে সভাপতি পদের লড়াইয়ে নাম আছে কাজী সালাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম মানিক ও বাদল রায়ের। কিন্তু মূল মঞ্চের লড়াইটা হতে যাচ্ছে মানিক বনাম সালাউদ্দিনের।

হিমু আক্তার