বড় লিড নিয়েই ছাড়ল ভারত
ইডেন টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভারতকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। অধিনায়কের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ভালো করেন অজিঙ্কা রাহানে ও চেতেশ্বর পুজারা। তিন ব্যাটসম্যানে ভর করে আজ শনিবার দ্বিতীয় দিন ৩৪৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ২৪১ রানের লিড সামনে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে বাংলাদেশ।
ইডেন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুটা দুর্দান্ত করেছেন স্বাগতিক অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও অজিঙ্কা রাহানে। তবে সেঞ্চুরির দিকে আগানো জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিলেন তাইজুল ইসলাম। ফিরিয়ে দিলেন রাহানেকে। ভাঙেন ৯৯ রানের জুটি।
তবে কোহলি-রাহানের জুটিতে সেঞ্চুরি না হলেও এরই মধ্যে ১৫৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। গোলাপি বলের ক্রিকেটে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সেঞ্চুরি করেন তিনি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তাঁর ২৭তম সেঞ্চুরি। আর অধিনায়ক হিসেবে ২০তম সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি কোহলি। এবাদতের বলে আউট হয়ে ফিরেছেন ১৩৬ রানে। কোহলি ফেরার পর তেমন কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে অধিনায়কের ব্যাটেই শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে ভারত। দ্বিতীয় সেশনে ৩৪৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে বিরাট কোহলির দল। লিড ২৪১ রানের, হাতে ছিল এক উইকেট।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সমান তিনটি করে উইকেট নেন আল-আমিন হোসেন ও এবাদত হোসেন। দুটি উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহি।
এর আগে গতকাল শুক্রবার ইডেন টেস্টে ভারতীয় বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। শেষ সেশনে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৭৪ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে ভারত। দিন শেষে উইকেটে ছিলেন বিরাট কোহলি (৫৯) ও অজিঙ্কা রাহানে (২৩)। ৬৮ রানের লিড নিয়ে আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছে ভারত।
ইডেনে গতকাল ভারতীয় বোলারদের সামনে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই ইমরুল কায়েসকে হারায় বাংলাদেশ।
দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারলেন না অধিনায়ক মুমিনুল হকও। স্লিপে রোহিত শর্মার অসাধারণ ক্যাচে শূন্য রানে ফিরলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ মিঠুনও ফিরলেন শূন্য রানে। তিন বলের মধ্যে দুই উইকেট নেন উমেশ যাদব।
ব্যাটিংয়ের মূল আস্থা মুশফিকুর রহিমও হাল ধরতে পারেননি। ইন্দোরে বাংলাদেশের মান রাখা মুশফিক ঐতিহাসিক টেস্টে ফিরলেন শূন্য রানে। এরপরে একে একে ফিরলেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদউল্লাহ ।
এর মধ্যে সাবলীল ব্যাট করছিলেন লিটন দাস। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে পাঁচ বাউন্ডারিতে ২৪ রানে ব্যাট করছিলেন। তখনই মোহাম্মদ শামির বলে আহত হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় লিটনকে। মাথায় আঘাত পাওয়া লিটনকে পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
লিটনের পরিবর্তনে ‘কানকাসন’ পদ্ধতিতে বদলি ব্যাটসম্যান নামানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামানো হয় মিরাজকে। এই স্পিনারই এখন বাংলাদেশের প্রথম বদলি ক্রিকেটার।
বদলি খেলোয়াড় মিরাজও তেমন ভালো করতে পারেননি। ইশান্ত শর্মার বলে আট রানে ফিরেন তিনি। টিকলেন না বাকিরাও। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দ্বিতীয় সেশনেই ১০৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাথায় আঘাত পান নাঈম হাসান। তার বদলি হিসেবে সুযোগ পান তাইজুল ইসলাম।
ভারতের হয়ে বল হাতে ২২ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা। ২৯ রান দিয়ে তিন উইকেট সংগ্রহ করেন উমেশ যাদব। দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ শামি।

স্পোর্টস ডেস্ক