জিতেও বার্সার বিদায়, ৯ বছর পর সেমিতে আতলেতিকো
বার্সেলোনার সামনে অপক্ষো করছিল অগ্নিপরীক্ষার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে যেতে হলে আতলেতিকোর বিপক্ষে জিততে হতো ৩ গোলের ব্যবধানে। সেই লক্ষ্যে শুরুটা দারুণ করেছিল হান্সি ফ্লিকের দল। প্রথম ২৫ মিনিটেই করেছিল দুই গোল। কিন্তু এরপর আর পারল না কাতালানরা। যদিও ম্যাচ জিতেছে বার্সা, কিন্তু সমীকরণ মেলাতে পারেনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। এর আগে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছিল কালাতানরা। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে চলে গেলে আতলেতিকো। ৯ বছর পরে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে গেলো তারা।
এ ম্যাচেও আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। ৬২ শতাংশ বল নিজেদের দকলে রেখে গোলের জন্য শট নেয় ১৫টি। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল আটটি। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে আতলেতিকোও গোলের জন্য শট নেয় ১৫টি। তবে তারা লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল পাঁচটি।
দাপট দেখানো ম্যাচের শুরুটা ছিল বার্সেলোনার জন্য স্বপ্নের মতো। প্রথম লেগের ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলটি মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়। কিন্তু রক্ষণভাগের ভুলে হজম করা একটি গোলই শেষ পর্যন্ত তাদের স্বপ্নভঙ্গ করে দেয়।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন লামিনে ইয়ামাল। বক্সে ফেররান তরেসের পাস পেয়ে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন এই তরুণ তুর্কি।
দ্বিতীয় গোলের জন্য বার্সেলোনাকে অপেক্ষা করতে হয় ২০ মিনিট। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরেস নিজেই। ওলমোর পাস বক্সে ঢুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটু এগিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ শটে জালে পাঠান তরেস। এতে প্রথম লেগের ব্যবধান শেষ হয়।
বার্সেলোনা যখন তৃতীয় গোলের নেশায় মরিয়া, ঠিক তখনই আঘাত হানে স্বাগতিকরা। ৩১ মিনিটে মার্কোস ইয়োরেন্তের পাস থেকে অরক্ষিত আদেমোলা লুকমান গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে আতলেতিকোকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
এরপর বার্সেলোনা একের পর এক আক্রমণ করলেও আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসো ছিলেন চীনের প্রাচীর হয়ে। প্রথমার্ধেই রক্তাক্ত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বার্সার ফের্মিন লোপেসকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়াতে রবার্ত লেভানদোভস্কি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে মাঠে নামান কোচ হান্সি ফ্রিক। ৫৪তম মিনিটে আবারও আতলেতিকোর জালে বল পাঠিয়েছিলেন তরেস। তবে ভিএআর মনিটর দেখে অফসাইড ঘোষণা করেন রেফারি।
ম্যাচের ৭৭ মিনিটে বার্সেলোনার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে এরিক গার্সিয়ার লাল কার্ড। আলেকসান্দার সরলথকে পেছন থেকে টেনে ধরে শুরুতে হলুদ কার্ড দেখেন গার্সিয়া। পরে মনিটরে রিপ্লে দেখে বার্সেলোনা ডিফেন্ডারকে সরাসরি লাল কার্ড দেন রেফারি। শেষ ১৯ মিনিট দশ জন নিয়ে খেলায় ছন্দ হারায় দলটি।
রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়াম।

স্পোর্টস ডেস্ক