বিশ্বকাপ খেলতে ১০ শর্ত দিল ইরান
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে বাকি আছে আর ঠিক এক মাস দুই দিন। ইতোমধ্যে দেশে দেশে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। বিপরীত চিত্র ইরানে। এশিয়া অঞ্চল থেকে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে দেশটি। কিন্তু বৈশ্বিক এই আসরে অংশগ্রহণ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা।
অবশেষে অনিশ্চয়তার চোরাবালি মাড়িয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার জোরাল ঘোষণা দিল ইরান। ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। তবে জুড়ে দিয়েছে ১০টি শর্ত।
ইরান বলেছে, ‘আমরা অবশ্যই ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করব, তবে আয়োজকদের অবশ্যই আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।’
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে জোর দিয়ে ফেডারেশন বলেছে, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে আমরা যে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছি, কোনো বহিরাগত শক্তি ইরানকে সেখানে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। আমরা আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত না হয়েই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করব।’
তবে বিশ্বকাপে খেলতে আয়োজক দেশগুলোকে মেনে নিতে ইরান দিয়েছে বেশকিছু শর্ত। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের শর্তগুলোর কথা জানিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ।
তাজ বলেন, ‘খেলোয়াড় এবং স্টাফদের কোনো জটিলতা ছাড়াই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে, ইরানের পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিমানবন্দর, হোটেল ও ম্যাচের সাথে যুক্ত যাতায়াতের পথে উচ্চতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের সবগুলো ম্যাচ রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আগে থেকেই ইরানি নাগরিকদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ইরানের ওপর তাদের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরান। একমাসেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ যুদ্ধ করেছে। যে কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও কঠিন হয়েছে।
এই যুদ্ধের পর আবারও আলোচনা উঠেছিল ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেবে কি না ওয়াশিংটন। এ নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের ফুটবলাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কোনো আপত্তি নেই তাদের। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কোনো সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেবে না তারা।
এমনটা হলে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের দুই সদস্য, এমনকি স্বয়ং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ, তারা একসময় আইআরজিসির সদস্য ছিলেন।
মেহেদী তাজ এই বিষয়টি নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তার ভাষায়, এক সময় আইআরজিসির পরিষেবা সম্পন্ন করা ফুটবলার (মেহেদি তারেমি এবং এহসান হাজসাফি) এবং স্টাফদের ভিসা পেতে যেন কোনো সমস্যা না হয়।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে বিমানবন্দর, হোটেল, প্রধান সড়ক এবং স্টেডিয়ামগুলোতে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রোটোকল প্রদান করতে হবে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’
ইরানের সমর্থকদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশে কোনো বাধা না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন মেহেদী তাজ।
জাতীয় সংগীত নিয়ে তাজ বলেছেন, প্রতিটি ম্যাচে জাতীয় সংগীত কোনো বাধা ছাড়াই সঠিকভাবে বাজাতে হবে। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফুটবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

স্পোর্টস ডেস্ক