সালতামামি ২০১৬
বোল্ট আর ফেল্পসের বছর
২০১৬ সাল ছিল অলিম্পিকের বছর। বরাবরের মতো এবারও আলাদাভাবে ক্রীড়াবিশ্বের নজরে ছিলেন অলিম্পিয়ানরা। রিও অলিম্পিকে দেখা গেছে অনেক উত্থান-পতন আর রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্স। তবে নিশ্চিতভাবেই সব আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন কিংবদন্তি দুই ক্রীড়াবিদ উসাইন বোল্ট ও মাইকেল ফেল্পস। এটাই ছিল তাঁদের শেষ অলিম্পিক। বোল্ট-ফেল্পসের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন একটা যুগেরই সমাপ্তি ঘটে গেল অলিম্পিকে। বছরের শেষে দেখে নেওয়া যাক অলিম্পিক আর অ্যাথলেটিকস অঙ্গনের সাড়া জাগানিয়া ঘটনাগুলো।

বোল্টের ট্রিপল ট্রিপল
এবছরের অলিম্পিকে বোল্ট গড়েছেন অভূতপূর্ব এক রেকর্ড। অ্যাথলেটিকসের টানা তিনটি আসরের তিনটি ইভেন্টেই জিতেছেন স্বর্ণপদক। অবিস্মরণীয় এই ‘ট্রিপল ট্রিপল’ দিয়ে বোল্ট স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছেন অলিম্পিকের ইতিহাসে। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বেশ স্পষ্ট করেই ঘোষণা দিয়েছেন জ্যামাইকান এই অ্যাথলেট, ‘আমি প্রমাণ করেছি যে আমিই বিশ্বসেরা।’
এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করার অবকাশও কম। ১০০, ২০০ ও ৪X১০০ মিটার রিলে ইভেন্টে প্রথম হওয়াটা যেন অভ্যাসই বানিয়ে ফেলেছিলেন দ্রুততম মানব। ১০০ ও ২০০ মিটারের একক ইভেন্টের বিশ্বরেকর্ডও আছে বোল্টের দখলে। ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি অলিম্পিকেই এই তিনটি ইভেন্টের স্বর্ণপদক নিজের গলায় ঝুলিয়েছেন তিনি।
২০১৭ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের পরেই হয়তো ট্র্যাক থেকে অবসর নেবেন বোল্ট। শেষবারের মতো তাঁকে দেখা যাবে সবার আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করার পর ভিক্টরি ল্যাপ দিতে। তবে তাঁর কীর্তি সহজে মুছে যাবে না ক্রীড়াবিশ্ব থেকে। অনেকের অনুপ্রেরণা হিসেবেও শোনা যাবে বোল্টের নাম। দুইবারের ডেকাথন স্বর্ণপদকজয়ী আমেরিকান অ্যাথলেট অ্যাশটন ইটন বলেছেন, ‘আমি যে উসাইন বোল্টের যুগে খেলতে পেরেছি, সেটা খুবই আনন্দের ব্যাপার। তাঁর বিদায়ের পর একটা শূণ্যতা তৈরি হবে, এমন কথার সাথে অবশ্য আমি একমত নই। বোল্ট ঠিকই থেকে যাবেন অনেক তরুণ, উঠতি অ্যাথলেটদের প্রেরণা হিসেবে।’

অলিম্পিকে ফেল্পস-যুগের অবসান
বোল্টের মতো অলিম্পিক ক্যারিয়ার শেষ করে ফেললেন সর্বকালের অন্যতম সেরা অলিম্পিয়ান মাইকেল ফেল্পস। টানা চারটি অলিম্পিকে অংশ নিয়ে আমেরিকান এই সাঁতারু জিতেছেন মোট ২৩টি স্বর্ণপদক। এটাই যে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড, তা বলাই বাহুল্য। গত তিনটি আসরের মতো এবারও সুইমিং পুলে দেখা গিয়েছিল ফেল্পস-ঝড়। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকেও তিনি জিতেছেন মোট পাঁচটি স্বর্ণপদক।
সফল হতে পারেননি শুধু ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে। এখানে ফেল্পসকে পেছনে ফেলে স্বর্ণ জিতেছিলেন সিঙ্গাপুরের জোসেফ স্কুলিং। মজার ব্যাপার হলো ফেল্পসকে দেখেই সুইমিংয়ে আগ্রহী হয়েছিলেন তরুণ এই সাঁতারু। ফেল্পসই ছিলেন তাঁর স্বপ্নের নায়ক। স্কুলিংয়ের মতো আরো অসংখ্য সাঁতারু অনুপ্রেরণা হিসেবে সামনে রাখেন ফেল্পসকেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু রায়ান মারফি যথার্থই বলেছেন, ‘আপনি কোন দেশের জন্য সাঁতার কাটছেন সেটা কোনো ব্যাপার না। আপনি সবসময়ই ঋণী হয়ে থাকবেন মাইকেল ফেল্পসের কাছে। তিনি আমাদের অনেকের জন্য একটা দরজা খুলে দিয়েছেন।’

অনন্য উচ্চতায় অ্যান্ডি মারে
২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক স্মরণীয় হয়ে থাকবে অ্যান্ডি মারে ও ব্রাজিল ফুটবল দলের জন্যও। টেনিসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এককে টানা দুটি আসরে স্বর্ণপদক জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়েছেন মারে। এ বছর প্রথমবারের মতো টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও দখল করেছেন ব্রিটিশ এই তারকা।

ব্রাজিলের স্বপ্নপূরণ
ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিলের আক্ষেপ ছিল একটাই। তাদের বর্ণিল ট্রফি কেসে এত দিন ছিল না শুধু অলিম্পিকের স্বর্ণপদকটি। নিজ দেশে আয়োজিত এবারের অলিম্পিকে তাই কোনোভাবেই এই স্বর্ণজয়ের সুযোগটি হাতছাড়া করতে চায়নি সেলেসাওরা। অধিনায়ক নেইমারের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শেষপর্যন্ত স্বপ্নপূরণও হয়েছে ব্রাজিলের। ফুটবলে প্রথমবারের মতো তারা জিতেছে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক।

স্পোর্টস ডেস্ক