শান্তিতে ঘুমাও, রমন লাম্বা!
জিওফ মার্শ ও ডেভিড বুনের শতকে ৪৭ ওভারে মাত্র ৩ উইকেটে ২৫০ রান সংগ্রহ করার পর বেশ তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়েন অ্যালেন বোর্ডার। ১৯৮৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৫০ রানের বাধা ডিঙানোর রেকর্ড ছিল না বললেই চলে। উদ্বোধন করতে নেমে ঝড়ের শুরুটা করেছিলেন শ্রীকান্ত। তবে রমন লাম্বার ৫৩ বলে ৬৪ রানে ভর করেই সেদিন রানের পাহাড় টপকেছিল ভারত। সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে অসিদের ২৩৮ রানের দেয়ালও জয় করেন লাম্বা।
রাজকোটে ক্রেইগ ম্যাকডারমট ও সায়মন ডেভিসদের যেভাবে পেটাচ্ছিলেন রামান লাম্বা, তাতে করে চোখ চড়কগাছে উঠেছিল সবার। গতির দিক থেকে ম্যাকডারমটের তখন তুলনা নেই। ডাউন দ্য উইকেটে এসে এই অজি পেসারের একের পর এক বল বাউন্ডারি ছাড়া করছিলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটে হার্ড হিটিং ব্যাটিংয়ে শেবাগ, কোহলিদের নাম বেশি উচ্চারিত হলেও এর শুরুটা করেছিলেন রমন লাম্বা। ভারতীয় ক্রিকেটের বিরল প্রতিভাধরদের একজন মনে করা হতো তাঁকে।
খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি রমন লাম্বার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ১৯৮৬ সালে অভিষেকের পর ১৯৮৯ সালেই শেষ ম্যাচ খেলেন এই ব্যাটসম্যান। চার টেস্ট ও ৩২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন তিনি। এরপর অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে দাপিয়ে খেলে বেড়ান রমন লাম্বা। ইংলিশ কাউন্ট্রি, আইরিশ লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। ১৯৯৮ সালে আজকের দিনে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে এসে বলের আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরম বন্ধু এই অমিত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার।
১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। ঢাকার ঘরোয়া আসরে মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী ও মোহামেডান। আবাহনী হয়ে মাঠে নেমেছেন রমন লাম্বা। আবাহনী তখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ক্রিজে মেহরাব হোসেন অপি। অধীর আগ্রহে শেষ উইকেটের অপেক্ষা করছেন রমন লাম্বা। একেবারে শট ফাইন লেগে চলে এলেন তিনি। শফিউল্লাহ খানের খাটো লেন্থের বলে পুল করলেন অপি। বল গিয়ে লাগল রমন লাম্বার মাথায়।
মাথায় লেগে বলটি ফিরে এসে প্রায় ১০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে ক্যাচ ধরেন উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলট! উল্লাস করারও সময় পাননি আবাহনীর ক্রিকেটাররা। কারণ ততক্ষণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন রমন লাম্বা। পরে হেঁটে ড্রেসিংরুমেও গিয়েছিলেন। কিন্তু ড্রেসিংরুমে ফিরেই বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আর কোনোদিন জ্ঞান ফেরেনি তাঁর।
আশির দশকে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে তখন যে কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলতে আসতেন, রমন লাম্বা ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। প্রায় নয় বছর বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন তিনি।
দেশের ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার খ্যাত এই মহান বন্ধুকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে থাকে বাংলাদেশ। রমন লাম্বার নামানুসারে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়। ১৯৯৮ সালের আজকের দিনে বিকেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রমন লাম্বা। শান্তিতে ঘুমাও হে অকৃত্রিম বন্ধু।

ওয়াসিফ করিম