বারবার গোল বাতিল হওয়ায় ভয়ে ছিল উত্তর কোরিয়াও
স্কোরবোর্ডে তাকালে মনে হবে ম্যাচটি ছিল একেবারেই একপেশে। ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। শক্তিশালী কোরিয়ানদের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। একের পর এক গোল বাতিল হওয়ায় এক পর্যায়ে বেশ ভয়ই পেয়ে গিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে কোনো গোল করতে পারেনি উত্তর কোরিয়া। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু প্রতিবারই ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির কল্যাণে গোলগুলো বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা ম্যাচসেরা খেলোয়াড় চে উন নিজের ভয়ের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা গোল করছিলাম কিন্তু ভিএআরে তা বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। ওই সময়টায় আমরা বেশ নার্ভাস (উৎকণ্ঠায়) ছিলাম।’
একই সুর শোনা গেল উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সনের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের শান্ত থাকতে বলছিলাম। জানতাম গোল আসবেই। প্রথম গোল পাওয়ার পরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’
ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথমবার জালে বল পাঠায় উত্তর কোরিয়া, কিন্তু ভিএআর চেক করে দেখা যায় হ্যান্ডবল হয়েছে। এর পাঁচ মিনিট পর বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলির গ্রিপ করা বল থেকে শট নিয়ে গোল করলে সেটিও ফাউলের কারণে বাতিল হয়। এরপর অফসাইডের কারণে আরও একটি গোল বাতিল হলে ডাগআউটে থাকা কোরিয়ান কোচও কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার কোচ। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে কোচ রি সন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের তিনজন খেলোয়াড়কে নজরে রেখেছিলাম। তারা আমাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারত। সেই অনুযায়ী ছক সাজিয়েছিলাম বলেই তারা আক্রমণে উঠতে পারেনি।’
চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাত্র ২-০ গোলে হেরেছিল। সেখানে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হার ৫-০ ব্যবধানে। এমন স্কোরলাইন কি আগে ভেবেছিলেন? জবাবে কোরিয়ান কোচ বলেন, ‘ফুটবলে যেকোনো কিছুই হতে পারে। তাই স্কোরলাইন নিয়ে আমি আগেভাগে ভাবিনি। বাংলাদেশ ভালো দল, তারা দ্রুত গুছিয়ে নিতে পারলে আরও ভালো করবে।’

স্পোর্টস ডেস্ক