উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারল না বাংলাদেশ
ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল। আগের ম্যাচের প্রতিপক্ষ চীনের চেয়ে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া। চীন ম্যাচে যে ঝলক দেখিয়েছিল বাংলার মেয়েরা, তাতে এদিনও অন্তত লড়াই দেখার আগ্রহ ছিল ভক্তদের। কিন্তু, হতাশ করেছে বাংলার মেয়েরা। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) এএফসি নারী এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ৫-০ গোলে।
প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয়ার্ধেরও শুরু থেকেই আগ্রাসন বজায় রাখে। আবারও দৃশ্যপটে হাজির হন মিলি আক্তার। একাধিক সেভে ব্যবধান বাড়তে দেননি। মিলির একার পক্ষে সম্ভব ছিল না শক্তিশালী কোরিয়াকে থামানো। তবু, তার চেষ্টার কমতি ছিল না। সতীর্থদের ব্যর্থতায় এরপর হজম করেন আরও তিন গোল।
৬৩ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন চায়ে উন-অং। এক মিনিট পর কিম কিয়ং-ইয়ং ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে চতুর্থ গোল করেন। ৯০ মিনিটে কিম হায়ে-অং বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন। নিশ্চিত হয় ৫-০ গোলের হার।
ছন্নছাড়া ডিফেন্সের খেসারত দিতে হয়েছে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। অধিনায়ক আফঈদা সুলতানার ফাউলে পেনাল্টি পায় উত্তর কোরিয়া। সেখান থেকে গোল করতে ভুল হয়নি মিয়ং ইউ-জংয়ের। মিনিট দুয়েক পর আবার গোল পায় কোরিয়া। স্কোরবোর্ডে নাম লেখান কিম কিয়ং-ইয়ং। তাতে, ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
চীনের সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়াই করা দলটিকে যেন আজ খুঁজেই পাওয়া যায়নি। সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই ছন্নছাড়া মনে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। অবস্থা এতটা বেগতিক হয়ে পড়ে, বিরতির আগেই তিনজনকে বদলি করেন বাটলার।
প্রথমার্ধে স্কোরবোর্ডে ব্যবধান ২-০ হলেও, অনায়াসে তা ৫-০, এমনকি ৬-০ হতে পারত। না হওয়ার কৃতিত্ব বাংলাদেশের রক্ষণভাগের নয়, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর)। ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম গোল বাতিল হয় উত্তর কোরিয়ার। ভিএআরে দেখা গেছে কোরিয়ার খেলোয়াড়ের হাতে লেগেছে বল। ২৬ মিনিটে আবারও গোল পায় তারা। এবারও ভিএআর। কর্ণার কিকের পর বল সেভ করেন মিলি, তার হাত থেকে লাথি দিয়ে জালে পাঠানো হয় বল। রেফারি সেই যাত্রায় বাতিল করেন গোল। ৩০ মিনিটে অফসাইডে কাটা পড়ে তৃতীয় গোল। ৩৮ মিনিটে কোরিয়ার একটি আক্রমণ বারে লেগে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

স্পোর্টস ডেস্ক