সাব্বির কি শুধু হতাশই করবেন?
বাংলাদেশ বছরটা বরণ করে নিয়েছিল আতশবাজি আর ফানুসের রঙিন আলোচ্ছটায়। বিপরীতে সাব্বির রহমানের বছরটা শুরু হয়েছিল একদম অন্ধকারে। জরিমানাসহ নিষিদ্ধ হতে হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজের মাঠে নিজেসহ আশা করেছিলেন ফিরবেন ভাল কিছু নিয়েই। কিন্তু সে আশায় গুঁড়েবালি। হতাশা ছাড়া এ বছর এখন পর্যন্ত কিছুই উপহার দিতে পারেননি সাব্বির।
বলা ভাল, শুধু এ বছরই নয়। সাব্বিরের ব্যাটটা হাসছেনা মাস দশেক ধরেই। ম্যাচের পর ম্যাচ বদলেছে, বদলেছে ব্যাটিং অর্ডার। বদলায়নি শুধু সাব্বিরের ব্যাটের রানখরা। একের পর এক ব্যর্থতাই ধরা দিয়েছে সাব্বিরের হাতে, সাফল্য যেন বন্ধুর পথ।
সাকিব আল হাসান হাতের চোটে ছিটকে গেছেন ম্যাচ থেকে। ওয়ান ডাউনের পরিচিত জায়গাটা আবারও ফিরে পেলেন সাব্বির। ফিরে আসার জন্য, জবাব দেয়ার জন্য মঞ্চটা ছিল একদম প্রস্তুত। তবে চামিরার বলটার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না সাব্বির। হাঁকিয়েছিলেন সপাটে, কিন্তু বল বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা গুনারত্নের হাতও ছিল প্রস্তুত। ফাইনালে দলের হয়ে সাব্বির অবদান রাখলেন বটে, রানটা অবশ্য মাত্র ২!
শেষ ১৬ ইনিংসে সাব্বির প্রত্যাশা তো পূরণ করতেই পারেননি, যেতে পারেননি ধারে কাছেও। শেষ অর্ধশতকটা সাব্বির হাঁকিয়েছেন নয় মাস আগে। ১৬ ইনিংসে ১৪.৪৬ গড়ে ২৭৭ রান আর যাই হউক প্রমাণ করতে পারেনা তিনি দলের অন্যতম সম্ভাবনাময় একজন ক্রিকেটার।
সুযোগটা বরাবরই পেয়ে আসছেন সাব্বির। নাসির, মোসাদ্দেক আর সৌম্যদের উপর ছাঁটাইয়ের মেশিন বেশ কয়েকবার চললেও সাব্বির বেঁচে গিয়েছেন শেষমেশ। বেঁচে গিয়েছেন সে তো ভাল, সবাই আশায় বুক বাঁধে এবার বোধহয় ফিরবেন। রানের বন্যায় ভাসিয়ে দেবেন প্রতিপক্ষকে। কিন্তু হায়, সে আর হয়না। যেই সাব্বির ছিলেন, সে সাব্বিরই থেকে যান। বদলায় শুধু সময় আর প্রতিপক্ষ।

স্পোর্টস ডেস্ক