সোহাগ গাজীর হতাশাভরা জীবন
টেস্ট ক্রিকেটে সোহাগ গাজীর এমন একটা কীর্তি আছে যা আর কারো নেই। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে শতক আর হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এমন অনন্য কীর্তি গড়া সোহাগ ঘুঁচিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলে অফস্পিনারের অভাবও। অথচ তিনিই কি না অনেক দিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে।
সোহাগের ক্যারিয়ারে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিল ২০১৪ সালের আগস্টে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ওয়ানডেতে তাঁর বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছিলেন আম্পায়াররা। এরপর ওয়েলসের কার্ডিফে অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাকশন শুধরে ক্রিকেটে ফিরলেও জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতে পারেননি।
সেজন্য ভীষণ হতাশ ২৪ বছর বয়সী সোহাগ। দুঃখভারাক্রান্ত মনে তিনি জানিয়েছেন, ‘গত বছরের জুলাইয়ে হঠাৎ করেই একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখন বলেছিলাম যে আমি তো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার নই। আমার বলে খুব বেশি বৈচিত্র্য নেই। সেই ম্যাচে মাত্র দুই ওভার বল করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আশা করেছিলাম আমাকে কোনো টেস্ট বা ওয়ানডেতে সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু আমাকে এখনো সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
তবে জীবন তো থেমে থাকে না। সোহাগও জাতীয় দলে ফেরার আশা ছেড়ে দেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৪ উইকেট নেওয়া এই অফস্পিনার আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলবেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের হয়ে। পরিশ্রম করে, ভালো খেলেই জাতীয় দলে ফেরার প্রতিজ্ঞা তাঁর কণ্ঠে, ‘এখন আমি শুধু কঠোর পরিশ্রম করে প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে পারি। আমাকে দলে নেওয়া বা না নেওয়া পুরোপুরি নির্ভর করছে নির্বাচকদের ওপর। আমি সেজন্য অপেক্ষা করছি। একদিন নিশ্চয়ই আমার পালা আসবে। আমি আশা ছাড়ছি না। বরং পেশাদারের মতো কাজ করে যাচ্ছি। আমি শুধু ব্যাট আর বল হাতেই জবাব দিতে পারি।’

স্পোর্টস ডেস্ক