‘ভাই আমি টিকেট বিক্রেতা নই’
তিনি হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোনো এক কর্মকর্তা। গলায় কার্ড ঝুলিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। কয়েক গজ হেঁটেছেন মাত্র, এতেই রীতিমতো নাকাল অবস্থা হয়েছে তাঁর। বারবার একটি প্রশ্ন শুনতে হয়েছে তাঁকে, ভাই একটা টিকেট হবে। আর উত্তরে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, ‘না ভাই আমার কাছে কোনো টিকেট নেই। আর আমি টিকেট বিক্রেতাও নই।’
শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে টিকেটের জন্য এতটাই হাহাকার ছিল যে, দর্শকরা গলায় কার্ড ঝোলানো কাউকে দেখলেই টিকেট চেয়ে বসছেন। আর টিকেট ব্ল্যাকার পেলেই তাঁর ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, ব্ল্যাকারদের কাছে টিকেট পাওয়া গেলেও তা অনেক চড়া মূল্যে চাইছে। টিকেটের অত্যধিক মূল্য দেখে কাউকে কাউকে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।
শহীদ মোস্তাক স্ট্যান্ডের টিকেটের দাম মাত্র ৩০০ টাকা। অথচ বাবুল নামের এক ব্ল্যাকার এই প্রতিবেদকের কাছেই সেই টিকেটের দাম চেয়েছেন দুই হাজার টাকা। আর ১০০ টাকার টিকেট এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ তো গেল টিকেটের দামের খবর। আর স্টেডিয়ামের বাইরে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে আছেন টিকেট না পেয়ে। তারা রাস্তায় বসে রেডিও ধারাভাষ্য শুনেই তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলছেন। কখনো বাংলাদেশের উইকেট পাওয়ার আনন্দে নেচে উঠছেন, আবার কখনো উইকেট পেতে পারে এই আশায়ও উল্লাস করছেন তাঁরা।
উত্তরা থেকে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাব্বির আহমেদ টিকেট না পেয়ে হতাশ হয়ে বলেন, ‘দেখুন না ভাই, একজন ব্ল্যাকার ৩০০ টাকার ক্রিকেট চাইছে দুই হাজার টাকা। এত টাকা তো আমার কাছে নেই, টিকেট কিনতেও পারলাম না। তাই কী আর করব। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে (রাস্তায়) বসে ধারাভাষ্য শুনছি।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক