কীভাবে হবে বিপিএলের নিলাম? জেনে নিন খুঁটিনাটি
মৌসুমের হিসেবে ৯ আর বছরের হিসাবে এক যুগ পরে নিলাম পদ্ধতি ফিরছে বিপিএলে। আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে নিলাম। যেখান থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজেদের দল গুছিয়ে নেবে। অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর জানার আগ্রহ রয়েছে কিভাবে হবে এই নিলাম? এনটিভির পাঠকদের জন্য নিলামের কিছু খুঁটিনাটি বিষয় তুলে ধরা হলো-
কিভাবে হবে নিলাম
বিপিএলের নিলাম হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিলামে তোলা হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বিদেশি ক্রিকেটারদের নিলামে তোলা হবে। দেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক হবে বাংলাদেশি টাকায়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারে।
আরও পড়ুন : বিজয়-মোসাদ্দেকদের বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা দিল বিসিবি
ক্যাটাগরি অনুযায়ী নিলামে একের পর এক খেলোয়াড়দের নাম তোলা হবে। এরমধ্যে যে খেলোয়াড়দের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা আগ্রহ দেখাবেন তাদের বিডিং হবে। যদি একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি কোনো খেলোয়াড়ের প্রতি আগ্রহ দেখায় তাহলে বিডিং বাড়বে। শুধু এক ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখালে ভিত্তিমূল্যেই সেই খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
আরও পড়ুন : সরাসরি চুক্তিতে ৬ দলের বিদেশি সাইনিং
প্রথমে নিলামে দল না পেলেও দেশি খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা। নিলাম শেষে অবিক্রিত থাকা দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে আরেক দফা হবে নিলাম। তবে এই ধাপে ক্যাটাগরি ‘এ’ থেকে ‘ই’ একধাপ করে নিচে নেমে যাবে। অর্থাৎ ক্যাটাগরি ‘এ’-কে তখন বিবেচনা করা হবে ক্যাটাগরি ‘বি’ হিসেবে।
যেভাবে হবে বিডিং
দেশি ক্রিকেটারদের ‘এ’ থেকে শুরু করে ‘এফ’ ছয়টি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩৫ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২২ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ১৮ লাখ, ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ১৪ লাখ এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে পারিশ্রমিক সর্বনিম্ন ১১ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন : সরাসরি চুক্তিতে ৬ দলের দেশি সাইনিং
‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের প্রতি ডাকে বাড়বে পাঁচ লাখ টাকা করে। ধরা যাক, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন লিটন দাস। তাকে নিতে প্রথম যে ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখাবে তারা ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখে পাবে। তবে দ্বিতীয় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিহ আগ্রহ দেখালে তাদের জন্য মূল্য হবে ৫৫ লাখ। এভাবে বাড়তে থাকবে মূল্য। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে বাড়বে ৩ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগারিতে ১ লাখ টাকা করে। এরপর বাকি তিন ক্যাটাগরিতে প্রতি ডাকে বাড়বে ৫০ হাজার টাকা করে।
দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্যাটাগরি ‘এ’ ও ‘বি’ থেকে কমপক্ষে দুজন ক্রিকেটার দলে ভেড়াতে হবে। ‘সি’ ও ‘ডি’ থেকে নিতে হবে ৬ জন আর ‘ই’ ও ‘এফ’ ক্যাটাগরি থেকে ৪ জনকে দলে নিতে হবে।
অন্যদিকে, বিদেশি খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে ‘এ’ থেকে শুরু করে ‘ই’ পাঁচটি ক্যাটাগরিতে। যেখানে ‘এ’ ক্যাটগরিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। এরপর ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ ও ‘ই’ ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক ২৫ হাজার, ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার ডলার।
আরও পড়ুন : প্রত্যাশা আর নতুনত্বের আবহ নিয়ে ফিরছে বিপিএলের নিলাম
বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতি ডাকে মূল্য বাড়বে পাঁচ হাজার ডলার করে। ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ ও ‘ই ’ ক্যাটাগরিরর যথাক্রমে প্রতি ডাকে বাড়বে ৩ হাজার, ২ হাজার,দেড় হাজার ও এক হাজার ডলার।
নিলামের নিয়ম
ক্যাটাগরি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্যে বিডিং শুরু হবে। সর্বোচ্চ বিডে গিয়ে খেলোয়াড়দের দলে টানবে যেকোনো দল। ‘সোল্ড’ বলে নিলাম পরিচালনাকারী হাতুড়ি দিয়ে টেবিলে আঘাত করলেই বিডিং শেষ হবে। কোনো দল নিজেদের ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করে বিডিং করে যেতে পারবে না।
খেলোয়াড় সীমা
নিলাম থেকে দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে ন্যূনতম ১২ জন ক্রিকেটারকে দলে ভেড়াতে হবে। আর সরাসরি চুক্তির দুই ক্রিকেটার দিয়ে সেই সংখ্যা হবে ১৪ জন। সর্বোচ্চ ১৬ জনকে দলে ভেড়ানো যাবে।
আরও পড়ুন : বিপিএলের চূড়ান্ত তালিকায় একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার
বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে নিলাম থেকে নূন্যতম দুজন ক্রিকেটারকে দলে ভেড়াতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। তবে সর্বোচ্চ কতজনকে নেওয়া যাবে সেই সংখ্যা নির্ধারিত নয়। তবে সকল বিদেশি খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে বিসিবি থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যয় সীমা
দেশি খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানো জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার সীমা। তবে এই সীমা সরাসরি চুক্তিতে দলে ভেড়ানো দুই ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক বাদে।
বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এই অর্থের মধ্যেই বিদেশি কোটা পূরণ করতে হবে। বিদেশি কোটার সরাসরি চুক্তির ক্রিকেটাররাও অন্তর্ভূক্ত থাকবে এই ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যেই।

ক্রীড়া প্রতিবেদক