এবার রসিংটন-নাঈম ঝড়ে উড়ে গেল সিলেট টাইটান্স
ব্যাটিং ব্যর্থতায়ই ম্যাচ অর্ধেকটা হেরে গিয়েছিল সিলেট টাইটান্স। কোনোমতে ১০০ পার করা সংগ্রহে যেভাবে অতিমানবীয় বল করার দরকার ছিল, সেটি করতে পারলেন না সিলেটের বোলাররা। উল্টো চট্টগ্রামের দুই ওপেনার চার-ছক্কার ঝড় তুলে জয় এনে দিল চট্টগ্রামকে।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান সংগ্রহ করে সিলেট। জবাব দিতে নেমে ৪ ওভার আর ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম।
আগের ম্যাচেও ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ঝড় তুলেছিলেন রসিংটন আর নাঈম। সে ম্যাচে ১২৩ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছিলেন তারা। চট্টগ্রাম জিতেছিল ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে।
স্বল্প রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে কোনো বেগ পতে হয়নি চট্টগ্রাম রয়্যালসের দুই ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন আর মোহাম্মদ নাঈমকে। শুরু থেকেই হাত খুলে খেলতে থাকেন এই দুই ব্যাটার। তাদের থামানোর মতো কোনো পরিকল্পনাই আটতে পারছিল না সিলেট টাইটান্সের বোলাররা। উল্টো চার-ছক্কার ঝড়ে খালেদ আহমেদ-মেহেদী হাসান মিরাজদের নাভিশ্বাস তুলেন এই দুই ব্যাটার।
কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার-প্লের মধ্যেই ৫৪ রান তুলে নেয় রসিংটন আর নাঈম। ১১৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ম্যাচের জয় লিখে ফেলেন তারা। এরপর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ফেরেন নাঈম। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫২ রান করেন তিনি। ৪ চার আর ৩ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি।
নাঈম ফিরলেও রসিংটন দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। সাদমান ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটা সারেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৩ বলে ৭৩ রানে। টানা দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন এই ইংলিশ ব্যাটার। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮ চার আর ২ ছক্কায়।
সিলেট টাইটান্সের হয়ে একমাত্র উইকেটটি পান রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার-প্লের মধ্যেই ৬ উইকেট হারায় সিলেট। চট্টগ্রাম রয়্যালসের শেখ মেহেদী আর মির্জা তাহির বেগের স্পিনে পরাস্ত হয়ে ফেরেন সিলেটের প্রথম ছয় ব্যাটার।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বিদায় দিয়ে শুরু হয় সেই ফেরার মিছিল। প্রমোশন নিয়ে ওপেনিংয়ে এসেও সফল হতে পারেননি তিনি। ফিরেছেন মোটে ৬ বলে ৫ রান করে। দ্রুতই ফিরে যান আবারও একাদশে সুযোগ পাওয়া হজরতউল্লাহ জাজাইও (৭ বলে ৪)।
এরপর পারভেজ হোসেন ইমন আর জাকির হাসান দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনই ভালো শুরু পেয়েছিলেন, কিন্তু একজনও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৫ বলে ১৫ রান করে জাকির ফেরার পর উইকেটে দাঁড়াতেই পারেননি ইথান ব্রুকস (১ বলে ০) ও আফিফ হোসেন (৪ বলে ৪ রান)।
ইমন আর আজমতুল্লাহ ওমরজাই মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়ে দলের রান কিছুটা বাড়িয়ে নেন। ২২ বলে ১৭ রান করে ইমন ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।
ওমরজাই এরপর রাহাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে গড়েন ৩৪ রানের আরেকটি জুটি। ৪১ বলে ৪৪ রান করা ওমরজাই ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। পরে নাসুমকে নিয়ে আরেকটু সময় চালিয়ে যান ফেরদৌস। তিনি অপরাজিত থাকেন ১৯ বলে ১৭ রানে। নাসুম ৬ বলে ১৩ রানে।
চট্টগ্রামের পক্ষে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদী ও মির্জা তাহির। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম ও আমের জামাল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স : ২০ ওভারে ১২৬/৭ (মিরাজ ৫, জাজাই ৪, জাকির ১৫, ইমন ১৭, ইথান ০, আফিফ ৪, ওমরজাই ৪৪, রাহাতুল ১৭*, নাসুম ৭*; শরিফুল ৪-০-২৯-১, মুকিদুল ১.২-০-১১-১, মেহেদী ৪-০-১৮-২, মির্জা তাহির ২.৪-০-২৪-২, তানভীর ৪-০-১৭-০, জামাল ৪-০-১৭-১)
চট্টগ্রাম রয়্যালস : ১৬ ওভারে ১৩০/১ (নাঈম ৫২, রসিংটন ৭৩*, সাদমান ৩*; নাসুম ৪-০-১৯-০, আমির ২-০-১০-০, ওমরজাই ১-০-১৬-০, খালেদ ২-০-২৩-০, মিরাজ ৩-০-২৮-০, রাহাতুল ৩-০-২৯-১, ইথান ১-০-৫-০)

স্পোর্টস ডেস্ক