আইসিসি থেকে বাংলাদেশ দলের আয় কত টাকা?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে কি না, দেশের ক্রিকেট পাড়ায় চলছে সেই আলোচনা। এর মাঝেই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের একটি বক্তব্য বিসিবির আয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, আইসিসি থেকে বিসিবি প্রতি বছরে নিজেদের মোট রাজস্ব আয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি অর্থ পায়। যে কারণে বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থের বিষয়টি চিন্তা করা প্রয়োজন।
তবে তামিম ইকবালের এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গণমাধ্যমকে বিসিবি জানিয়েছে, আইসিসি থেকে বিসিবি প্রতি বছর মোট রাজস্বের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ পেয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো না। যে কারণে বিসিবির অন্যান্য আয়ের পরিমাণ কমেছে। এরপরও কখনোই আইসিসি থেকে আয় ৯০ শতাংশের বেশি নয় বলে জানিয়েছেন বুলবুল। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারণে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আয় কিছুটা কমলেও আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কখনোই মোট আয়ের ৯০ শতাংশের বেশি নয়।’
আইসিসি থেকে আয়ের বাইরেও আন্তর্জাতিক হোম সিরিজের টেলিভিশন স্বত্ব, স্পনসরশিপ, জাতীয় দলের টাইটেল স্পনসর, আন্তর্জাতিক সিরিজের স্পনসর, কিট স্পনসরশিপ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয় বিসিবির।
প্রতিবছর বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করেও বড় একটা অর্থ আয় করে বিসিবি। যেখানে আছে— বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ। এছাড়া স্টেডিয়ামের টিকিট বিক্রি, গ্রাউন্ড রাইটস, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ এবং ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত বা এফডিআরের সুদও বিসিবির রাজস্বের অংশ।
২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিসিবির আয়-ব্যয়ের হিসাবে দেখা যায়, বিসিবির মোট আয় ছিল ৫০০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা প্রায়। যেখানে আইসিসি থেকে আয় ছিল ১৬৬ কোটি টাকা প্রায়। যেটি মোট আয়ের ৩২.৫ শতাংশ।
তবে আইসিসির ২০২৪-২৭ চক্রে আইসিসি থেকে বিসিবির আয়ের পরিমাণ বেড়েছে। এই সময়ে আইসিসির মোট আয়ের ৪.৪৬ শতাংশ অর্থ পাবে বাংলাদেশ। যা প্রায় ২৯০ কোটি টাকা। অবশ্য আইসিসি থেকে এই অর্থ বাংলাদেশকে আয় করে নিতে হয়। কারণ এই আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোকে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ দিয়ে থাকে।

স্পোর্টস ডেস্ক