বিশ্বকাপের আগে তদন্তের মুখে নেইমার
আগামী মাসে মাঠে গড়াবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই দলে নেইমার জুনিয়র থাকবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ব্রাজিলিয়ান তারকা আপাতত নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টায় ব্যস্ত। এর মাঝেই জন্ম দিলেন নতুন বিতর্ক। সতীর্থকে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সান্তোস এফসি। খবর ইএসপিএন।
নিজের ক্লাব সান্তোসের সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রকে 'শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত' করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত রোববার ট্রেনিং সেশনের সময় ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সান্তোস।
ইএসপিএন জানিয়েছে, অনুশীলনের সময় ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার রবিনহো জুনিয়র দারুণ এক ড্রিবলিংয়ে নেইমারকে কাটিয়ে যাচ্ছিলেন।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নেইমার। মেজাজ হারিয়ে তিনি রবিনহোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং সজোরে চড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্য সতীর্থরা দ্রুত এসে তাঁদের আলাদা করে দেন।
রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড রবিনহোর ছেলে রবিনহো জুনিয়র এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি নেইমারের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন- অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, জোরপূর্বক ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া ও মুখে সজোরে চড় মারা।
নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত দেখিয়ে রবিনহো জুনিয়র সান্তোসের সঙ্গে নিজের চুক্তি বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন।
সান্তোস ফুটবল ক্লাব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের মধ্যকার এই বাদানুবাদ ও লাঞ্ছিত করার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ক্লাবের আইন বিভাগকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নিয়ে সত্যতা যাচাই করা হবে।
নেইমারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ঘটনার পরপরই নেইমার পরিস্থিতি শান্ত করতে চেয়েছিলেন এবং সতীর্থের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নেইমার এক সময় রবিনহোর বাবার সাথে ব্রাজিল জাতীয় দলে খেলেছেন। যে কারণে এই ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক