স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা, চমকের অপেক্ষায় সৌদি আরব
কাগজেকলমে স্পেন এগিয়ে থাকলেও প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স সেই আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে। তাই সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ এইচের দ্বিতীয় ম্যাচে শুধু জয় নয়, ছন্দে ফেরারও লক্ষ্য থাকবে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের। অন্যদিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করা সৌদি আরব নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণের শক্তিতে আরেকটি চমক দেখাতে মুখিয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পেন। পুরো ম্যাচে ৭৪.৩ শতাংশ বলের দখল ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ গড়লেও কেপ ভার্দের রক্ষণ এবং অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে প্রত্যাশিত জয় ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্পেনকে।
সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানও স্পেনের জন্য খুব একটা স্বস্তির নয়। তারা টানা চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি। এই সময়ে তিনটি ড্র ও একটি হার রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে গোল করার পর থেকে বিশ্বকাপে তারা ২ হাজার ৫০০টি পাস ও ৪৯টি শট নিয়েছে। কিন্তু আর কোনো গোল করতে পারেনি। তবে ইতিহাস বলছে, স্পেন কখনো টানা তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলশূন্য থাকেনি।
তবে স্পেনের জন্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা লামিনে ইয়ামাল কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে অল্প সময়েই পাঁচটি ড্রিবলের চেষ্টা করেন। যা ম্যাচে সর্বোচ্চ। মাঝমাঠে রদ্রিও ছিলেন দারুণ ছন্দে। তার নিখুঁত পাসিং ও সুযোগ তৈরির দক্ষতা স্পেনের আক্রমণে প্রাণ জুগিয়েছে। সৌদি আরবের বিপক্ষেও এই দুই ফুটবলারের ওপর বড় ভরসা থাকবে স্পেনের।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ একটি ফল তুলে নিয়েছে সৌদি আরব। আবদুলেলাহ আল আমরির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ দিকে সমতাসূচক গোল হজম করলেও পুরো ম্যাচে সংগঠিত ফুটবল খেলেছে তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক পয়েন্ট পাওয়ায় জর্জিওস ডোনিসের দলের আত্মবিশ্বাস এখন অনেকটাই বেড়েছে।
সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস। উরুগুয়ের বিপক্ষে তিনি ৯টি সেভ করে দলের এক পয়েন্ট নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কোনো গোলরক্ষকের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। স্পেনের আক্রমণভাগের বিপক্ষেও তার পারফরম্যান্সই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য পুরোপুরি স্পেনের পক্ষেই। এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে দুই দলের, আর প্রতিবারই জয় পেয়েছে স্পেন। এই তিন ম্যাচে তারা ৯টি গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি। বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতেও ২০০৬ সালে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্পেন। অন্যদিকে বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ১১ ম্যাচে সৌদি আরবের একমাত্র জয়টি এসেছিল ১৯৯৪ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
সবকিছু বিবেচনায় এই ম্যাচে স্পেনই স্পষ্ট ফেবারিট। তবে প্রথম ম্যাচের মতো সুযোগ নষ্ট করলে আবারও ভুগতে হতে পারে তাদের। সৌদি আরব রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রেখে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজবে। কিন্তু স্কোয়াডের গভীরতা, অভিজ্ঞতা ও সামগ্রিক মান বিবেচনায় স্পেনের পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সম্ভাব্য একাদশ
স্পেন : উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, পেদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল ওইয়ারসাবাল।
সৌদি আরব : মোহাম্মদ আল ওয়াইস, সৌদ আবদুলহামিদ, হাসান আল তামবাকতি, আবদুলেলাহ আল আমরি, মতেব আল হারবি, মোহাম্মদ কান্নো, নাসের আল দাওসারি, সালেম আল দাওসারি, আইমান ইয়াহিয়া, ফিরাস আল ব্রিকান, আবদুল্লাহ আল হামদান।

স্পোর্টস ডেস্ক