জাপান-মরক্কো কি বদলে দেবে বিশ্বকাপের ইতিহাস?
বিশ্বকাপের ইতিহাস বদলেছে বারবার। টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা এবং প্রতিযোগিতার কাঠামোয় এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু একটি জায়গায় পরিবর্তন আসেনি। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের সূচনার পর থেকে শিরোপা জিতেছে কেবল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোই। সবমিলিয়ে মাত্র আটটি দেশ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার শিরোপার পর নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যোগ হয়েছে শুধু ফ্রান্স ও স্পেন। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স, আর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপা জেতে স্পেন।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ শক্তিশালী ফুটবল অবকাঠামো ও আধুনিক একাডেমি ব্যবস্থা। ইউরোপের ধনী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করেছে। সেই মডেল অনুসরণ করেই এখন বিশ্বের অনেক দেশ নিজেদের ফুটবল উন্নয়নের চেষ্টা করছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে থেকেও নতুন শক্তির উত্থান দেখা যাচ্ছে। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুন প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়ে। এরপর ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে নাইজেরিয়া এবং ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে ক্যামেরুন ফুটবলে অলিম্পিক স্বর্ণ জিতে প্রমাণ করে, আফ্রিকাও বড় মঞ্চে লড়াই করতে পারে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখে মরক্কো। ১৯৮৬ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরোনোর পর ২০২২ সালে তারা প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠে। মরক্কোর বর্তমান দলের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপে জন্ম নেওয়া বা সেখানকার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা। পাশাপাশি রাবাতের মোহাম্মদ ষষ্ঠ ফুটবল একাডেমির মতো প্রকল্প দেশটির নিজস্ব প্রতিভা তৈরির পথও শক্তিশালী করছে।
অন্যদিকে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাপানের জে লিগ দেশটির ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমানে জাপানি খেলোয়াড়রা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে নিয়মিত খেলছেন। জাতীয় দলও গড়ে তুলেছে নিজেদের স্বতন্ত্র খেলার ধারা।
এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের সামনে ব্রাজিল এবং মরক্কোর সামনে নেদারল্যান্ডস। এই দুই ম্যাচের ফলই হয়তো বলে দেবে, বিশ্বকাপে নতুন শক্তির উত্থান কেবল ক্ষণিকের ঝলক, নাকি ফুটবলের নতুন যুগের সূচনা।

স্পোর্টস ডেস্ক