তিউনিসিয়াকে হারিয়ে অপরাজিত গ্রুপসেরা নেদারল্যান্ডস
প্রথম বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণের ঝাঁজ দেখাতে শুরু করে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের প্রথম সাত মিনিটেই দুই গোল করে তিউনিসিয়াকে চাপে ফেলে দেয় রোনাল্ড কোম্যানের দল। দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া একবার ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরার আশা জাগালেও জান-পল ফন হেকের গোলে সেই সম্ভাবনার ইতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের দাপুটে জয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নকআউটে জায়গা করে নেয় তিনবারের বিশ্বকাপ রানার্সআপরা।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় নেদারল্যান্ডস। তবে ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পেয়েছিল তিউনিসিয়া। দ্বিতীয় মিনিটে ইসমাইল গারবির শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ডাচরা। সেই সতর্কবার্তার পরই খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় কোম্যানের শিষ্যরা।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিয়েস স্কিরির আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপে এটি ছিল ডাচদের ইতিহাসের তৃতীয় দ্রুততম গোল। চার মিনিট পর ভার্জিল ফন ডাইকের কর্নার থেকে ভেসে আসা বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-০ করেন ব্রায়ান ব্রবি। টুর্নামেন্টে এটি ছিল ২৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডের তৃতীয় গোল।
দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি নেদারল্যান্ডস। কোডি গাকপো, ডনিয়েল মালেন ও জান-পল ফন হেকে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা মেলেনি। অন্যদিকে, বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ডাচ রক্ষণে তেমন কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি তিউনিসিয়া। ফলে ২-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা তিউনিসিয়া ৫৪তম মিনিটে হ্যানিবাল মেজব্রির কর্নার থেকে হাজেম মাস্তুরির হেডে ব্যবধান ২-১ করে। এতে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে সেই আশার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র আট মিনিট। ৬২তম মিনিটে তিজানি রেইন্ডার্সের কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে আবারও স্বস্তি এনে দেন জান-পল ফন হেকে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।
শেষ দিকে বৃষ্টির মধ্যেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে নেদারল্যান্ডস। গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিউনিসিয়ার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ করে দেন। পরে মেমফিস ডিপে, নোয়া ল্যাং ও জাস্টিন ক্লুইভার্টকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করলেও আর কোনো গোল হয়নি।
এই জয়ের পাশাপাশি গ্রুপের অন্য ম্যাচে জাপান ও সুইডেন ১-১ গোলে ড্র করায় সাত পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে অপরাজিত থেকেই নকআউট পর্বে উঠেছে ডাচরা। শেষ ৩২- এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ মরক্কো। অন্যদিকে, মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে তিউনিসিয়ার।

স্পোর্টস ডেস্ক