ইংল্যান্ড-নরওয়ে লড়াই ছাপিয়ে চোখ কেইন-হালান্ডে
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন দ্বৈরথের অপেক্ষায় থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা। এক পাশে অভিজ্ঞতা, ঐতিহ্য আর শিরোপার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ইংল্যান্ড। অন্য পাশে ইতিহাস গড়ার নেশায় উজ্জীবিত নরওয়ে। মায়ামির উত্তপ্ত আবহে শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই ইউরোপীয় দল। তবে ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দুই গোলমেশিন হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্ডের লড়াই। একজন ইংল্যান্ডের ভরসা, অন্যজন নরওয়ের স্বপ্ন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অভিজ্ঞতার বিচারে ইংল্যান্ড অনেক এগিয়ে। তিনবারের রানার্সআপ দলটি এবার ১১তমবারের মতো খেলছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে থ্রি লায়ন্সদের। সেই ম্যাচে দুই গোল করে জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৬ গোল করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের পর আবারও এক বিশ্বকাপে ৬ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ১২ ম্যাচে তাঁর গোল ১১টি।
শুধু কেইন নন, মাঝমাঠে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি জুড বেলিংহ্যাম। এবারের বিশ্বকাপে চার গোল করে তিনি গড়েছেন নতুন রেকর্ড। বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের কোনো মিডফিল্ডারের সর্বোচ্চ গোল এখন তার দখলে। ডেকলান রাইসের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ইংল্যান্ডের মাঝমাঠকে করেছে আরও ভারসাম্যপূর্ণ।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আর্লিং হালান্ডকে আটকে রাখা। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন টানা চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করেছেন। মাত্র ১৮টি শট থেকে করেছেন ৭ গোল, যার চারটিই এসেছে ম্যাচ জেতানো মুহূর্তে। জাতীয় দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করে করেছেন ২৭ গোল। সবমিলিয়ে নরওয়ের হয়ে ৫৪ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৬২।
বিশ্বকাপে এবার সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি উপহার দিয়েছে নরওয়ে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে স্টালে সোলবাক্কেনের দল। গ্রুপ পর্বেও চারটি জয় তুলে নিয়ে তারা দেখিয়েছে, এই সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা নয়।
হালান্ডের পাশাপাশি নরওয়ের আক্রমণের অন্যতম চালিকাশক্তি অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরিতে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তার সঙ্গে অ্যান্টোনিও নুসা, আলেক্সান্ডার সোরলোথ ও সান্ডার বার্গেরাও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান অবশ্য ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত ১২ দেখায় ইংল্যান্ড জিতেছে ৮টিতে, নরওয়ের জয় মাত্র ২টি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের প্রীতি ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংলিশরা। শেষ চার দেখায় নরওয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোলও করতে পারেনি।
সেমিফাইনালে উঠতে হলে অতীতকে একপাশে রেখে মাঠে নামতে হবে। দুদলই জানে, খেলাটা সবুজ ঘাসে হবে, পরিসংখ্যানের পাতায় নয়।
সম্ভাব্য একাদশ
ইংল্যান্ড: জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, টিনো লিভরামেন্তো, ডেকলান রাইস, কোবি মাইনু, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা, হ্যারি কেইন, মার্কাস রাশফোর্ড।
নরওয়ে: অরিয়ান নিয়ল্যান্ড, জুলিয়ান রাইয়ারসন, ক্রিস্টোফার আজের, লেও ওস্টিগার্ড, ডেভিড মোলার উলফে, প্যাট্রিক বার্গ, সান্ডার বার্গে, মার্টিন ওডেগার্ড, অ্যান্টোনিও নুসা, আলেক্সান্ডার সোরলোথ, আর্লিং হালান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক