সাবালেঙ্কার হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে রিবাকিনার রাজত্ব
গোড়ালির চোটের কারণে টুর্নামেন্টে খেলা নিয়েই ছিল শঙ্কা। তবে সেই অনিশ্চয়তা উড়িয়ে দিয়ে কোর্টে নামার পর থেকেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে শুরু করেন এলিনা রিবাকিনা। প্রথমবারের মতো বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার লড়াই তো বটেই, ইউএস ওপেনের ফাইনালে এরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে নিজের স্বপ্নের শিরোপা জয়টা নিশ্চিত করলেন কাজাখস্তানের এই টেনিস তারকা।
নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে নারী এককের ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৬-৪, ৫-৭ ও ৬-২ গেমে জয় তুলে নেন রিবাকিনা। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম হলেও চলতি বছরে দ্বিতীয় এবং ইউএস ওপেনের প্রথম শিরোপা। ম্যাচ শেষে বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেন কিংবদন্তি রুশ তারকা মারিয়া শারাপোভা।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের ফেভারিট ও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা হিসেবে কোর্টে নামা সাবালেঙ্কার শেষটা হলো বুকভরা হতাশা নিয়ে। ইউএস ওপেনে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ক্রিস এভার্ট ও সেরেনা উইলিয়ামসের অনন্য কীর্তি ছোঁয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু রিবাকিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভেস্তে যায় তার সেই স্বপ্ন। একই সঙ্গে থামে যায় সাবালেঙ্কার টানা ২০ ম্যাচের জয়রথও।
এর আগে চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও এই সাবালেঙ্কাকেই হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন রিবাকিনা। ফলে চলতি শতকে একই বছরে দুটি হার্ডকোর্ট গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কীর্তিতে তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন তিনি। ২০১৬ সালে জার্মানির আঞ্জেলিক কেরবার এবং ২০২৪ সালে সাবালেঙ্কা এই ‘ডাবল’ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন।
ম্যাচ শুরুর আগে উত্তেজনার পারদ চড়ে থাকলেও ফাইনাল ম্যাচে রিবাকিনার নিখুঁত ধারাবাহিকতার সামনে টিকতে পারেননি সাবালেঙ্কা। হলুদ-কালো পোশাকে কোর্টে নামা রিবাকিনাকে দেখে মনে হচ্ছিল লক্ষ্য স্থির করা কোনো শান্ত মৌমাচ্ছি। পুরো ম্যাচজুড়েই তিনি ছিলেন ঠান্ডা মাথার ও ধীরস্থির। চাপের মুখেও খেই হারাননি একটুও।
অন্যদিকে, সাবালেঙ্কার খেলায় ছিল তীব্র অস্থিরতা। শট মিস করায় ও সুযোগ হাতছাড়ার কারণে তার শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল চরম হতাশা। একপর্যায়ে বল গ্যালারির দিকে সজোরে ছুড়ে মেরে কোড ভায়োলেশনের শিকারও হন তিনি।
ম্যাচের প্রথম সেট জিতে রিবাকিনা এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে কামব্যাক করেন সাবালেঙ্কা। দারুণ কিছু ড্রপ শট ও ব্যাকহ্যান্ড উইনারে ভর করে খেলা গড়ায় তৃতীয় ও নির্ণায়ক সেটে। তবে শেষ সেটে এসেও নিজের স্নায়ুচাপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখেন রিবাকিনা। ঠান্ডা মাথায় নিজের নিখুঁত শট আর জোরালো সার্ভ অব্যাহত রেখে প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও রিবাকিনার উদযাপনে ছিল না কোনো অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস। একদম শান্ত ও সাদামাটা ভঙ্গিতে নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিবাকিনা বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে মুখ দিয়ে কথা বের করা কঠিন। টুর্নামেন্টে আসার আগে এমন কিছু আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। চোটের কারণে বেশ ভুগছিলাম, কিন্তু কোনোভাবে সবকিছু আমার অনুকূলে চলে এসেছে।’
অন্যদিকে, ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর নিজের আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি সাবালেঙ্কা। হতাশায় কোর্টেই নিজের র্যাকেট আছড়ে ভেঙে ফেলেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর এবং টানা তৃতীয় শিরোপা হাতছাড়ার বেদনা সহ্য করা খুব কঠিন। আমি আজ নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আমি হতাশ, তবে এলেনাকে অভিনন্দন জানাই। আমি যদি আজ আরেকটু ভালো খেলতে পারতাম... তবে আশা করি পরের বছর আবার সুযোগ পাব।’

স্পোর্টস ডেস্ক