ডিআর কঙ্গোতে মৌমাছি পালন করে নারীর ক্ষমতায়ন
সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত দেশ ডিআর কঙ্গোর এক নারী মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণ দেন। এরইমধ্যে তিনি এক হাজারেরও বেশি মানুষকে এই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এখন তিনি বেশিসংখ্যক নারীকে এই পেশায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে ডিআর কঙ্গোতে ২০ হাজারের বেশি মৌমাছি পালনকারী আছেন, যাদের বেশিরভাগই উত্তর কিভুতে বাস করেন। সেখানে তারা ২৩ হাজারের বেশি মৌচাক পরিচালনা করেন।
ডেবোরার প্রশিক্ষণ গ্রহণের আগে অনেক মৌমাছি পালনকারী ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির উপর নির্ভর করতেন, যা পরিবেশের ক্ষতি করতো। মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছির বাসা প্রায়ই ধ্বংস হয়ে যেতো। ডেবোরার পরামর্শ অনুসারে আধুনিক মৌচাক বানানোর কারণে তাদের কাজ এখন সহজ, আরও উৎপাদনশীল এবং টেকসই হয়ে উঠেছে। ডেবোরা এখনও ছোট চাষীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি তাদের বলেন, মৌমাছি পালন করে নিয়মিতভাবে আয় করা সম্ভব।
ডেবোরা বলেন, ‘মৌমাছি পালন এমন এক পেশা যা আপনি ভালোবেসে করেন। এমন পেশা আপনাকে চাপ মোকাবেলা করতে সাহায্য করে, আবার লাভজনকও। মৌমাছি পালনকারী কোম্পানিগুলোর প্রায়ই আন্তর্জাতিক বা জাতীয়ভাবে ভালো খ্যাতি থাকে। আমি আমার জ্ঞান অন্যদের সঙ্গে, আমার সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পছন্দ করি। আমি যেটা সবচেয়ে পছন্দ করি তা হলো মৌমাছি পালন সম্পর্কে আমার জ্ঞান ভাগাভাগি করা।’
ডেবোরা এখন পর্যন্ত এক হাজারেররও বেশি মৌমাছি পালনকারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ওই অঞ্চলে ডেবোরা বলেন, মৌমাছি পালন পরিবারগুলোকে টেকসই আয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা দিতে পারে।
ডেবোরা বলেন, ‘যখন বেশিসংখ্যক নারী কোনো উদ্যোগে জড়িত হন তখন সেটি আরও টেকসই হয়। এই কারণেই আমি নারীদের মৌমাছি পালনে উৎসাহিত করার উপর মনোযোগ দিই, বিশেষ করে, যেহেতু আমাদের সংস্কৃতি প্রায়ই তাদের এসব কাজ করতে নিরুৎসাহিত করে থাকে। আমি মৌমাছি পালনের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুবিধাগুলোও তুলে ধরি।’
ডেবোরার মধু-প্রক্রিয়াকরণ ল্যাবে তার দল প্রতিদিন ৫০০টি পর্যন্ত ‘আসালি ইয়া কিভু’, অর্থাৎ ‘কিভুর মধু’র জার তৈরি করে। এই মধুর চাহিদা অনেক। ডেবোরার কোম্পানি গ্রেকম অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছে।
তার পরামর্শে অনেক নারী মৌমাছি পালনে যুক্ত হয়েছেন। আরও বেশিসংখ্যক নারীকে তাদের ‘মৌমাছি পালনকারী’ হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে চান ডেবোরা।

ডয়চে ভেলে