জাতীয় ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার (এনডিসি)-এর ক্লাউড ফ্যাসিলিটির সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো, স্টোরেজ, মেমোরি ও প্রসেসিং পাওয়ার, সিকিউরিটি এবং মনিটরিং—এই পাঁচটি মূল কম্পোনেন্টের সক্ষমতা কয়েকগুণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) পরিচালিত টায়ার-৩ ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কোলোকেশন, ওয়েব ও অ্যাপ্লিকেশন হোস্টিং, ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (ভিপিএস), সরকারি ই-মেইল, ডাটাবেজ, ডিএনএসসহ বহুবিধ আইটি সেবা প্রদান করছে। ২০১৯ সালে প্রথমবার সরকারি ক্লাউড সেবা চালু হলেও সে সময় মাত্র ১১টি ক্যাটাগরিতে সেবা সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, অ্যাপ্লিকেশন আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই এনডিসির ক্লাউড সেবা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, পারফরম্যান্স মনিটরিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে আরও ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিসিই, বিএমএস, ওবিএস ৩.০, এইচএসএস, ডিএসসি, সিএফডব্লিউ ২.০, সিবিএইচ, ডিবিএএস, এনডিআর, এওএম, এপিএম, ডাটাবেজ ও পিজিএসকিউএলসহ বিভিন্ন আধুনিক সেবা।
এদিকে বিদ্যমান ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা বাস্তব চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত হওয়ায় যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে তিনতলা বিশিষ্ট টায়ার-৩ সার্টিফায়েড একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে উচ্চ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন ২০০টিরও বেশি আইটি রেক স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি এআই ওয়ার্কলোডও হোস্ট করা যাবে। বর্তমানে যেখানে মাত্র ১৬টি সাধারণ রেক রয়েছে, সেখানে নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই ডাটা সেন্টার পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সরকারের ৬০০টিরও বেশি সংস্থার ই-মেইল এবং ক্লাউড স্টোরেজ/ড্রাইভ হোস্টিং সেবা নিশ্চিত করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন Nutanix Private Cloud Infrastructure স্থাপন করা হয়েছে। এতে আধুনিক জিপিইউ সেবাও যুক্ত করা হয়েছে, যা সরকারি অ্যাপ্লিকেশনের এআই ওয়ার্কলোড, জেনারেটিভ এআই ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ভিত্তিক সেবা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সরকারি ডিজিটাল সেবার পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে আধুনিক হোস্টিং অবকাঠামো ও প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন আধুনিকায়ন এবং সফটওয়্যার জীবনচক্র ব্যবস্থাপনায় ডেভঅপস ও ডেভসেকঅপস প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় ডাটা সেন্টারে Platform as a Service (PaaS) হিসেবে Red Hat OpenShift Container Platform চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে এনডিসির ক্লাউড অবকাঠামোর প্রসেসিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার ভার্চুয়াল কোরে এবং মেমোরি সক্ষমতা ১৭০ টেরাবাইটে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ পেটাফ্লপ জিপিইউ সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যার বড় অংশ ইতোমধ্যে বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্টোরেজ সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রায় ৮ পেটাবাইটে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে ফিজিক্যাল আইসোলেশন সুবিধাসহ অ্যান্টি-র্যানসমওয়্যার স্টোরেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টারের মনিটরিং ব্যবস্থায় চিহ্নিত দুর্বলতা দূর করতে নিজস্ব জনবল দিয়ে প্রয়োজনীয় মনিটরিং সফটওয়্যার উন্নয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, সিকিউরিটি ও সার্ভিস মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে মনিটরিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
জানানো হয়-উল্লিখিত সেবাসমূহের প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ দেশের সামগ্রিক ডিজিটাইজেশন কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং সরকারি সংস্থাগুলোকে উন্নত নিরাপত্তা, আধুনিক ডাটাবেজ ও শক্তিশালী ক্লাউড অবকাঠামোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন, কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক