করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে ১৫টি দেশ
প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে করোনার কারণে দেওয়া লকডাউন তুলে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এর মধ্যেই নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা সংস্থা নোমুরার সমীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, করোনায় আক্রান্তের দ্বিতীয় ধাক্কা বা ঢেউয়ের চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভারতসহ বিশ্বের ১৫টি দেশ।
নোমুরা এ বিষয়ে জরিপ চালিয়েছে বিশ্বের ৪৫টি বড় অর্থনীতির ওপর। লকডাউন তোলার ফলে করোনায় আক্রান্ত কত হারে বাড়ছে, তার ওপর ও সমীক্ষাটি চালানো হয়। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে, এমন দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ভারত। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমাদের জরিপে মিশ্র ফলাফল এসেছে। অর্থনীতির বড় অংশ খুলে গেছে, এমন ১৭টি দেশে সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ আসার লক্ষণ নেই। আর ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেকেন্ড ওয়েভের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এসব দেশের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। বাকি ১৫টি দেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেকেন্ড ওয়েভের ঝুঁকি প্রবল। এর মধ্যে রয়েছে ভারত।’
সংস্থার বিশ্লেষণ বলছে, লকডাউন ওঠার ফলে দুই ধরনের চিত্র তৈরি হতে পারে। প্রথম চিত্রটি ইতিবাচক। এতে দেখা যায়, একটি দেশের জনসাধারণের গতিশীলতা বা প্রাণচাঞ্চল্য দ্রুত ফিরছে। সংক্রমণের হার কম হওয়ার ফলে মানুষের মনের ভীতি কমছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। দ্বিতীয় চিত্রটি হলো, অর্থনীতির চাকা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে মানুষের মনে ভয় বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, এসব দেশে লকডাউন আবার জারি করা হতে পারে।
জরিপে ৪৫টি দেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি হলো, ‘অন ট্র্যাক’ অর্থাৎ সব কিছু স্বাভাবিক। দ্বিতীয়টি হলো, ‘ওয়ার্নিং সাইনস’ বা সতর্কতার লক্ষণ এবং তিন নম্বরটি হলো ‘ডেঞ্জার জোন’ বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকিসম্পন্ন বিপজ্জনক অঞ্চল। ভারত পড়েছে ওই বিপজ্জনক জোনে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে নিম্ন থেকে মধ্যম আয়ের জনসংখ্যার দেশগুলোর মধ্যে এ জোনে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, চিলি ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো। আর এ গোষ্ঠীতে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইডেন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা।
অন ট্র্যাক বা ঝুঁকি প্রায় নেই, এমন গোষ্ঠীতে রয়েছে, ফ্রান্স, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়া। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো ঝুঁকিপ্রবণ গোষ্ঠীতে রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক