নেই পর্যাপ্ত পিপিই, নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ চিকিৎসকদের
বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। করোনার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ছেন চিকিৎসকরা। করোনা রোগীর চিকিৎসা করার সময় দরকার মাস্ক ও ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক পোশাক বা পিপিই। কিন্তু পিপিই বরাদ্দের জন্য বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো কাজ না হওয়ায় অন্য উপায় বেছে নিলেন জার্মানির একদল চিকিৎসক।
পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেই চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রীর জোগানে ঘাটতি রয়েছে। কোনো সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া করোনার চিকিৎসা করা মানে তা নগ্নতারই সমান। তাই মাস্ক ও পিপিই না পেয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন জার্মানির একদল চিকিৎসক। তাঁদের ভাষ্য, ‘সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া আমরা কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি, এ নগ্নতা তারই প্রতীক।’ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ প্রতিবাদের ছবিগুলোতে দেখা যায়, পোশাক ছেড়ে চিকিৎসকদের কেউ শরীর ঢেকেছেন প্রেসক্রিপশনে, তো কেউ রোগীর রেকর্ড ফাইলে। কেউ আবার মেডিকেল সরঞ্জামের আড়ালে লজ্জা লুকিয়েছেন। এ প্রতিবাদের নাম রাখা হয়েছে ‘ব্ল্যাঙ্ক বেডেনকেন’ বা ‘নেকেড কোয়ামস’, বাংলায় ‘নগ্ন সংশয়’। এসব চিকিৎসকের অভিযোগ, যেদিন থেকে জার্মানিতে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে, সেই জানুয়ারির শেষ থেকেই সরকারের কাছে এ সুরক্ষা সরঞ্জামগুলো চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিন মাস কেটে গেলও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরঞ্জাম চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। তাই এমন প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা।
তবে প্রতিবাদ করার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা এও স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা অবশ্যই রোগীদের চিকিৎসা করতে চান এবং করবেনও; কিন্তু তাঁদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক