পাথরের মতো শক্ত সরকার, পিছু হটবে না : অমিত শাহ
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিসহ সারা ভারতের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের হামলা ও ধরপাকড় চলছে। এদিকে আইনের বিরুদ্ধে যতই আন্দোলন গড়ে উঠুক, এ বিষয়ে পিছু হটতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অন্যদিকে, প্রাণ থাকতে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকরে সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘জনগণের জানমাল ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জামিয়া মিলিয়ায় পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। পুলিশ তা করেছে।’
গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে অর্থনীতিবিষয়ক এক সম্মেলনে বক্তৃতায় এসব কথা বলেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, ‘দেশে ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, মাত্র ২২টিতে আন্দোলন হচ্ছে। জামিয়া মিলিয়ায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে। ভাঙচুরে অংশ নেওয়াদের এবং বাসে আগুন দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার আইনটির বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার রাজপথে নামেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাখো মানুষের সামনে আবারও বললেন, প্রাণ থাকতে এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হতে দেওয়া হবে না।
মমতা বলেন, ‘আমার এখানে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির ভয়ে ৩০ জন আত্মহত্যা করেছেন, এর দায় কে নেবে। পেঁয়াজের দাম দুইশ টাকা। এখন সিএবি বাজারে বিক্রি করছে, এর পর এনআরসি বাজারে বিক্রি করবে, এর পর হিন্দুত্ব বিক্রি করবে, কখনো মুসলিমত্ব বিক্রি করবে, কখনো শিখকে তাড়াবে, কখনো বাঙালিকে তাড়াবে। আর মানুষের ঘোর সর্বনাশ করে দেবে।’
এ ছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে দেশটির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আইনটি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে দেশটির বিরোধী শিবিরের একটি প্রতিনিধিদল।
বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল ভারত। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই মঙ্গলবারও দিল্লির সিলামপুর এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আইনটির বিরুদ্ধে জামিয়া মিলিয়া ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভের মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে বিক্ষোভ এখন তুঙ্গে।
বিভিন্ন সড়ক অবরুদ্ধ রেখে প্রতিবাদ করলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। দিল্লির সালিমপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার সাতটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি দেখানোর পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে সরব দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, চণ্ডীগড়, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরালা, আসাম, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা।

অনলাইন ডেস্ক