এবার বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন লোকসভায় তৃণমূলের ২০ এমপি!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বড়সড় ভাঙনের পর এবার কি ভারতের জাতীয় সংসদেও (পার্লামেন্ট) বড় ধাক্কা খেতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) বর্তমানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা দলবদলের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছেন।
সূত্রের খবর, দলবদলের এই আলোচনা একদম উচ্চপর্যায়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট এমপিরা ইতোমধ্যেই বিজেপির প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশের আগ্রহ দেখিয়েছেন। বর্তমানে ভারতের সংসদের দুই কক্ষ (লোকসভা ও রাজ্যসভা) মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৪১ জন এমপি রয়েছেন- যার মধ্যে ২৮ জন লোকসভায় ও ১৩ জন রাজ্যসভায়।
যদি সত্যিই এই ২০ জন এমপি দলবদল করেন, তবে তা বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকে দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের মুখোমুখি হওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য হবে আরেকটি বিশাল ধাক্কা। ভারতের জাতীয় সংসদে বিরোধী শিবিরের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। ফলে সংসদে দলের এই ভাঙন কেবল তৃণমূলকেই নয়, সামগ্রিকভাবে ভারতের বিরোধী জোটের শক্তিকেও বড়সড় ধাক্কা দেবে।
সংসদে এই ভাঙনের আশঙ্কার নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাম্প্রতিক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সংসদীয় দল ইতোমধ্যেই আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের একটি দল নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুধু তা-ই নয়, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগ করেছে এবং রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও পেয়ে গেছে। এই গোষ্ঠীটি প্রকাশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তার মনোনীত বিরোধী দলীয় নেতার প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে এই বিদ্রোহের আগুন দানা বাঁধছিল। দুর্নীতি ও আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে দলের অনেক নেতাই প্রকাশ্য সমালোচনা শুরু করেন। গত সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও অনেক বিক্ষুব্ধ নেতা অংশ নেন। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও যদি আগামী দিনগুলোতে এই ভাঙন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে তা রাজ্য বিধানসভার এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
নাম ও প্রতীক হারানোর শঙ্কায় মমতা
দলের এই চরম ক্রান্তিলগ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল মনোযোগ এখন যেকোনো মূল্যে দলের নাম ও নির্বাচনি প্রতীক (জোড়া ফুল) রক্ষা করার দিকে। তবে ভারতের রাজনীতিতে পূর্ববর্তী ‘মহারাষ্ট্র মডেলের’ (যেখানে শিবসেনা বা এনসিপির নাম ও প্রতীক বিদ্রোহী গোষ্ঠী পেয়েছিল) নজির টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতার জন্য এই প্রতীক ও নাম টিকিয়ে রাখার লড়াই অত্যন্ত কঠিন হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক