যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখছে হামাস, গাজায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর
আগামী ‘দু-এক দিনের মধ্যে’ ইসরায়েল ও গাজা উপত্যকার হামাস বাহিনী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে আশা করছেন হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কিন্তু অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইসরায়েলে জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে না আসা’ পর্যন্ত তিনি (হামলা) ‘চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে সহিংসতা কমানোর কথা বলার কিছুক্ষণ পরই নেতানিয়াহুর কাছ থেকে এ ঘোষণা আসে বলে জেরুজালেম পোস্ট এবং ইসরায়েলি অন্যান্য গণমাধ্যমের বরাতে সিএনবিসি জানিয়েছে।
দশ দিন ধরে চলতে থাকা হামাসকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর যে আবেদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন করেছিলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নেতানিয়াহু বরঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, লক্ষ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি হামলা জারি রাখবেন।
নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সহায়তার জন্য সাধুবাদ জানান। তবে একইসঙ্গে বলেন, ইসরায়েলের শান্তি ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান বলবৎ থাকবে।
হামাস কর্মকর্তা কী বললেন?
লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশনকে হামাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা মুসা আবু মারজুক বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির যে প্রচেষ্টা চলছে, তা সফল হবে বলে আমি মনে করছি।’
‘আশা করছি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হবে। আর, তা হবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে’, যোগ করেন মারজুক।
হামাসের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো যখন সংঘাত বন্ধের জন্য ইসরায়েল ও হামাসের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
এদিকে মিসরিয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় ইসরায়েল-হামাস দুপক্ষ যুদ্ধবিরতিতে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। তবে, এখনও আলোচনা চলছে।
এদিকে গতকাল বিকেল নাগাদ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৪ শিশুসহ ২২৭ জন এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ১২ ইসরায়েলি হামাসের হামলায় নিহত হয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েল ফিলিস্তিনের জেরুসালেমে আল জাররাহ এলাকা দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। এ নিয়ে সেখানকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মধ্যে থেমে থেমে উত্তেজনা চলে আসছিল। গত ৭ মে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমা অর্থাৎ জুমাতুল বিদা আদায় করতে বিপুল মুসল্লি আল-আকসা মসজিদে সমবেত হলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হয়। মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী।
এর দুদিন পর শবে কদরেও আল-আকাসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে মুসল্লিদের সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে গত ১০ মে থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক