সৌদিতে অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার অভিযান শুরু
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের দেশত্যাগের সুযোগ দিয়ে চার মাস ‘সাধারণ ক্ষমার’ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে গ্রেপ্তার অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি প্রশাসন।
স্থানীয় সময় গত সোমবার ‘নেশন ফ্রি অব ভায়োলেটরস’ শিরোনামে চার মাস মেয়াদি সাধারণ ক্ষমার সময় শেষ হয়। এই সময়ের মধ্যে যারা আউটপাস সংগ্রহ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে বলে জানায় সৌদি আরবের পাসপোর্ট বিভাগ।
সৌদি পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক সোলাইমান আল ইয়াহিয়া সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটকে বলেন, ‘সাধারণ ক্ষমার সময় কোনোভাবেই আর বাড়ানো হবে না। যেসব অবৈধ প্রবাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেননি তাঁরা অবিবেচক। তাঁরা আইনের প্রতি কোনো সম্মান দেখাননি। তাঁদের এখন শাস্তি পেতে হবে।’
‘স্বেচ্ছায় সৌদি আরব ছাড়া ও পরে যে কোনো সময় বৈধভাবে আবার সৌদি আরবে আসার জন্য সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এটা ছিল তাঁদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।’
সোলাইমান আল ইয়াহিয়া আরো বলেন, ‘যাঁরা সাধারণ ক্ষমার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও সৌদি আরবে অবস্থান করবেন তাঁদেরকে জরিমানা করা হবে এবং দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। শিগগিরই আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। এতে অংশ নেবে সরকারের ১৯টি বিভাগ।’
এদিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর আউট পাস সংগ্রহ করে দেশে ফিরতে আবেদন করেছেন ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক।
সৌদি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যেই এ সুযোগ নিয়ে মোট ছয় লাখের বেশি অবৈধ শ্রমিক ও বিদেশি সৌদি আরব ছেড়েছেন। তাদের মধ্য থেকে আবার নতুনভাবে কাজের ভিসা নিয়ে বৈধভাবে সৌদি আরবে ফিরে এসেছেন ১৫ হাজারের বেশি মানুষ।
যাঁরা সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন, তাঁদের আঙুলের ছাপ রাখা হয়নি। ফলে সহজেই তাঁরা বৈধভাবে আবার প্রবেশ করতে পারবেন সৌদি আরবেন।
সৌদি সরকারের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় নিজ দেশে ফিরতে আবেদন করেছেন পাকিস্তানের ৭৬ হাজার, ইথিওপিয়ার ৬০ হাজার, সুদানের ৪৬ হাজার, ভারতের ৩১ হাজার ও ইন্দোনেশিয়ার ১৩ হাজার অভিবাসী।

কামাল পারভেজ অভি, মক্কা