বুশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ আরেক নারীর
তৃতীয় আরেক নারী যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। আজ শুক্রবার ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত উপন্যাসিক ক্রিস্টিনা বেকার ক্লাইন এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, টেক্সাসের হিউস্টনে ২০১৪ সালে সিনিয়র বুশ তাঁর পেছনে আপত্তিকর চাপ দিয়েছেন।
ক্রিস্টিনা বেকার বলেন, তাঁর স্বামী সিনিয়র বুশের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি তাঁর পেছনে হাত দেন।
এর আগে হিদার লিন্ড নামের এক অভিনেত্রী সিনিয়র বুশের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে পেছন থেকে তিনি তাঁকে স্পর্শ করেন।
এরপর জর্ডানা গ্রলনিক নামের আরেক অভিনেত্রী বলেন, ২০১৬ সালে সিনিয়র বুশ তাঁর শরীর আপত্তিকরভাবে হাতড়ান।
উপন্যাসিক ক্লাইনের জন্ম ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে। বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ক্লাইন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর এক লেখায় বুশের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী ও তিনি বুশের হুইলচেয়ারের পাশে বসেছিলেন। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তুমি সুন্দর।’
নারী উপন্যাসিক বলেন, “বুশ ফিসফিস করে বলেন, ‘তুমি কি জানতে চাও আমার প্রিয় বই কোনটা?’ আমি তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ি। জ্বি, কোনটা?’ তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আলোকচিত্রী ছবি তোলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। আমার স্বামী হুইলচেয়ারের এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি আরেক পাশে। প্রেসিডেন্ট বুশ তাঁর হাত দিয়ে আমার পেছনে ধরেন। এরপর কৌতুক করেন, ডেভিড কপ-আ-ফিল (ডেভিড কপারফিল্ড একটি বইয়ের নাম, কপ-আ-ফিলের অর্থ অনুমতি ছাড়া কারো গায়ে হাত দেওয়া)।’
লেখিকা বলেন, ‘জোরালোভাবে আমার পেছনে ধরেন বুশ, ঠিক সেই সময় আলোকচিত্রী ছবি তুলছিলেন। আমি স্বাভাবিকভাবেই তাঁর হাত সরিয়ে দিই।’ তিনি বলেন, এরপর দুষ্টু বালকের মতো বুশ হেসে উঠলেন।
ক্লাইন বলেন, তিনি ও তাঁর স্বামী ডেভিড অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যাওয়ার পথে আমি ডেভিডকে ঘটনাটা বলি। আমি এত আশ্চর্য হয়েছি যে চুপ থাকতে পারিনি। সে বলে, তুমি কৌতুক করছ।’
এ ব্যাপারে বুশের মুখপাত্র জিম ম্যাকগ্রা একটি বিবৃতি সংবাদমাধ্যমে পাঠান। এতে বলা হয়, ’৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট বুশ প্রায় পাঁচ বছর ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। এ কারণে তাঁর হাত লোকজনের, যাঁরা তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে যান, কোমরের নিচে তাঁর হাত চলে যায়।’
বিবৃতে বলা হয়, লোকজনকে সহজ করে নিতে প্রেসিডেন্ট নিয়মিত কৌতুক শোনান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারীদের তিনি পিঠ চাপড়ে দেন, যেটা তিনি ভালো আচরণ বলেই মনে করেন।’ মুখপাত্র বলেন, ‘কেউ বিষয়টা নির্দোষভাবেই নেয়, কেউ ঠিকভাবে নেয় না। যাঁরা মনে করেন এটা খারাপ হয়েছে, তাঁদের কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।’

অনলাইন ডেস্ক