ট্রেনচালকের কামরায় ‘পাগল’, লাফিয়ে বাঁচলেন যাত্রীরা
ট্রেনচালকের কামরায় ‘পাগল’। লাল, নীল বোতামগুলো একটির পর একটি টিপছে। মুখে ‘ভ্রুর... ভোওও...’ আওয়াজ। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে উর্দিধারী আরপিএফ জওয়ানরা চালকের কামরা থেকে বের হতে তাকে অনুরোধ করছেন। কার কথা কে শোনে! ‘ভ্রুর... ভোওও..’ আওয়াজ আরো বাড়ছে।
এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত স্টেশনে। ভারতীয় সময় তখন শুক্রবার রাত পৌনে ১০টা।
বনগাঁ থেকে শিয়ালদহগামী ডাউন শিয়ালদহ লোকাল সবে এসে দাঁড়িয়েছে বারাসত জংশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড় করিয়ে চালক তাঁর কামরা থেকে গেলেন শৌচাগারে। দরজা খোলা রেখেই চালক তড়িঘড়ি নেমে পড়েন। এই সুযোগে প্ল্যাটফর্মে থাকা এক ‘পাগল’ উঠে পড়ে চালকের কামরায়। চালকের কামরায় উঠে দরজা বন্ধ করে দেয় সে। ইচ্ছেমতো লাল, নীল বোতাম টিপতে শুরু করে। মজা পেয়ে মুখে ‘ভ্রুর... ভোওও...’ আওয়াজ করে চলে।
চালক ট্রেনে উঠতে এসে দেখেন এই ঘটনা। চক্ষু তাঁর চড়কগাছ! ‘পাগল’ যদি বোতাম টিপে ট্রেন চালিয়ে দেয় তাহলে তো সর্বনাশ! দেরি না করে তৎক্ষণাত দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বারাসত স্টেশন লাগোয়া রেলের আরপিএফ (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স) ও সিআরপিএফের (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) জওয়ানদের ঘটনার কথা জানান চালক। ছুটে আসেন জওয়ানরা। আকুতি-মিনতি বলে কাজ হলো না। পাগল তখন বোতাম টিপে ট্রেন চালাতে মরিয়া।
ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে দেখে যাত্রীরা তখন উঁকি-ঝুকি মারছিলেন। এই ঘটনার কথা জানতে পেরে আতঙ্কে লাফঝাঁপ মেরে ট্রেন থেকে নামতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সবাই। মিনিট খানেকের মধ্যেই ফাঁকা হয়ে যায় ট্রেন।
২০-২৫ মিনিট ধরে চলে ‘নাটকীয় দৃশ্য’। অনুরোধে পাগল বের না হওয়ায় আরপিএফের ও সিআরপিএফের জওয়ানরা চালকের কামরার দরজা ভেঙে ফেলেন। তারপর আড়কোলা করে পাগলকে নামান চালকের কামরা থেকে।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে চালক নিজের কামরায় উঠে স্বস্তির শ্বাস নেন। চালু করেন ট্রেন। তখন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে হো হো করে হাসছে পাগল।

কলকাতা সংবাদদাতা