মিসডকলের জবাব দেওয়াই কাল হলো মেয়েটির
ভারতের বৃহত্তর নদীয়া জেলার একটি গ্রাম। রোববারের চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে গ্রামের এক কুয়া থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে। বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে কাঁদছিল রক্তাক্ত মেয়েটি।
কিশোরীর প্রথম ‘ভুল’ ছিল একটি মিসডকলের উত্তর দেওয়া! আর দ্বিতীয় ‘ভুল’ ছিল কিষান নামে ছেলেটির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া। মিসডকল দেওয়া বা মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগের আগেই পশ্চিম দিল্লির এই কিশোরী সম্পর্কে সমস্ত খবর জোগাড় করে নিয়েছিল কিষান। এরপরই তাঁকে ফাঁদে ফেলার কাজ শুরু করে সে।
দিল্লির উত্তর নগরে বন্ধুর টেলিফোন রিচার্জের দোকান থেকে কিশোরীর ফোন নম্বর জোগাড় করে কিষান। এরপর কিশোরীকে ফোন করে। কথার একপর্যায়ে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। দেখা করতে গেলে সব সময় মেয়েটির জন্য উপহার নিয়ে আসত কিষান। নদীয়ার এক ধনী ব্যক্তির সন্তান হিসেবে ওই কিশোরীর কাছে নিজেকে পরিচয় দেয় সে। আর এসব বিশ্বাস করে নেয় ১৫ বছরের মেয়েটি। এর এই সরল বিশ্বাসের মূল্য প্রায় জীবন দিয়ে দিতে হচ্ছিল মেয়েটিকে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েটির জবানবন্দির পর প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, কিষানের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার ভাই দেবেন্দরের বিরুদ্ধে রয়েছে বেশ কয়েকটি ডাকাতির মামলা।
গত ২১ নভেম্বর কিষান মেয়েটিকে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। এ সময় তার বন্ধু বিপিনও ছিল তার সঙ্গে। বাড়িতে দুধ কেনার কথা বলে বের হয় মেয়েটি। এরপরই সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করে সে। কিষানের কথায় গাড়িতে করে ঘুরতে রাজি হয়ে যায় সে।
গাড়িটি পরিচিত গণ্ডি পেরোবার সঙ্গে সঙ্গে কিষান মেয়েটিকে যৌন হেনস্তা করতে শুরু করে। মেয়েটির মুখ চেপে ধরে তারা। এরপর নদীয়ার পারি চকের কাছের তুঘলপুর গ্রামে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। সেখানে একটি ভাড়া করা ঘরে রাতভর ধর্ষণ করে তাকে। একই রাতে সেখানে পৌঁছে কিষানের ভাই দেবেন্দর। মেয়েটিকে সেও ধর্ষণ করে।
তবে ভীত না হয়ে এ ঘটনার বিচারের হুমকি দেয় মেয়েটি। তখন পুলিশের হাত থেকে নিস্তার পেতে দেবেন্দরের সঙ্গে পরামর্শ করে কিষান। মেয়েটিকে নিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে চলে যায় তারা। সেখানে টানা ১৪ দিন মেয়েটিকে নিজেদের দাসী বানিয়ে রাখে তারা। যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়েটির প্রতিরোধ করার ক্ষমতা শেষ না হয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করতে থাকে কিষান ও তার ভাই।
গত ৫ ডিসেম্বর মেয়েটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় দেবেন্দর। এ জন্য আবারও একটি ফাঁদ পাতে তারা। কিষানের বন্ধু বিপিন মেয়েটিকে পালানোতে সহায়তা করার কথা বলে তাকে একটি মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর ওই তিনজন মদ পান করে এবং আবারও মেয়েটিকে শেষবারের মতো ধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটিকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে কিষান আর পরপর তিনটি গুলি করে দেবেন্দর।
জবানবন্দিতে দিল্লি পুলিশকে মেয়েটি জানিয়েছে, প্রথম গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে পরের দুটি গুলি গিয়ে লাগে তার পেটে ও পাজরের একটি হাড়ে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে ছুড়ে ফেলা হয় পাশের কুয়ায়। প্রচণ্ড ব্যথায় কুঁকরে ওঠে মেয়েটি। কিন্তু টু শব্দ করেনি সে। পুলিশকে মেয়েটি বলে, ‘তারা আবারও গুলি করতে পারে এই ভয়ে আমি কাঁদতেও পারিনি। আমি তাদের চলে যাওয়ার অপেক্ষা করছিলাম এবং সাহায্যের জন্য কান্নার আগে রাতটা শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’ কিষানদের গাড়িটি চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে মেয়েটি। তারপর সাহায্যের জন্য চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে সে।
মেয়েটির অভিযোগ অনুযায়ী তাকে উদ্ধারের পরদিন কিষান ও বিপিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিটি অপরাধের কথা স্বীকার করেছে কিষান। এখন পুলিশ দেবেন্দরের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক