শ্লীলতাহানির অপরাধে ১১ নারীর কারাদণ্ড
শ্লীলতাহানির অপরাধে ১১ জন নারীকে দুই বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সেউড়িতে ২২ বছরের এক তরুণীকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করায় ওই নারীদের সাথে আরো এক ব্যক্তিকে একই সাজা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার মহারাষ্ট্রের একটি আদালত অভিযুক্তদের এই শাস্তি দেন।
পিটিআইয়ের সংবাদে জানা যায়, ভারতের আইনে ‘নারীর শ্লীলতাহানির’ অপরাধের ধারায় বলা আছে, ‘he will thereby outrage the modesty of a woman’। শ্লীলতাহানির অপরাধীর ক্ষেত্রে এখানে ‘he’ অর্থাৎ পুরুষবাচক শব্দের উল্লেখ থাকায় কোনো মহিলাকে মহিলার শ্লীলতাহানির দায়ে শাস্তি দেওয়া যায় না বলে আদালতে আবেদন করেছিলেন দোষী সাব্যস্ত নারীদের আইনজীবী। কিন্তু গতকাল দেওয়া রায়ে এই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। উপরন্তু বিচারক জানিয়ে দেন, ৩৫৪ ধারার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বিচার্য বিষয় নয় ।
এ ছাড়া গুরুতর অপরাধের পরও শুধু আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে গেলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে বলে জানিয়েছেন বিচারক। দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি, অপরাধীদের এক হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৭ জুন আক্রান্ত তরুণীর বড় ভাই চার বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে গ্রেপ্তার হন। এরপর ২২ বছরের ওই তরুণীকে আক্রমণ করে ‘ধর্ষিতা’ মেয়েটির আত্মীয় ও গ্রামবাসী। তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে নগ্ন করে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেয় গ্রামবাসী। উলঙ্গ করে তাঁকে হাঁটানো হয়।

অনলাইন ডেস্ক