সিঙ্গুরের মানুষকে জমি ফেরত দেব : মমতা
পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত সিঙ্গুরে টাটার কারখানা তৈরিতে জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জমি ফেরত প্রসঙ্গে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘৫০ বছর হলেও আমার কিছু করার নেই।’ তিন মাসের মাথায় সেই কথা পাল্টে মমতা বলেছেন, ‘আমি সিঙ্গুরের মানুষকে জমি ফেরত দেব।’
শুক্রবার দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানেও তৃণমূল নেত্রী ভরসা রাখলেন বিশ্বাসের ওপরই। জমি ফেরত দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমুলের এই প্রধান নেত্রী বললেন, ‘আমার বিশ্বাস, জমি ফেরত পাবেন কৃষকরা।’
নানা সাফল্য দাবি করার মাঝেও সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দিতে না পারাটা যে তাঁর গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে, তা ফের সামনে এলো তৃণমূলের নির্বাচনী ইশতেহারে। মমতার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ২০১১-তে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তার চেয়ে বেশি তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘সিঙ্গুরের বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি। বিশ্বাস করি, সিঙ্গুরের মানুষকে জমি ফেরত দিতে পারব।’
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন মমতার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। পাঁচ বছর কেটে গেলেও সেখানকার অনিচ্ছুক কৃষকরা জমি ফেরত না পাওয়ায় বিরোধীরা এই ইস্যুকে এবারের বিধানসভা ভোটের প্রচারে অন্যতম হাতিয়ার করেছে। সিপিএম প্রার্থী রবীন দেব এরই মধ্যে ন্যানোয় চড়ে সিঙ্গুরে প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন। ক্ষমতায় এলে তাঁরা সিঙ্গুরে কারখানা করবেন, এই বার্তাও দিচ্ছে সিপিএম। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সিঙ্গুর ইস্যু মমতার কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারা। দ্বিতীয়ত, সিঙ্গুর নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সিঙ্গুর নিয়ে যথেষ্ট চাপের মুখে রয়েছেন মমতা। বিধানসভা ভোটের মুখে বিরোধীরা এই ইস্যুতে আক্রমণ ধারালো করায় সেই চাপ আরো বেড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদের আক্রমণ মোকাবিলায় দলীয় ইশতেহারে তিনিও বোঝানোর চেষ্টা করলেন, এ বিষয়ে তাঁর আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

কলকাতা সংবাদদাতা