কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে কন্ট্রোল রুম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার বিবেকানন্দ ফ্লাইওভার বিধ্বস্ত হওয়ায় কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসেও খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এর নম্বর হচ্ছে ৯১-৩৩-৪০১২৭৫০০।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপদূতাবাসের পক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটির একাংশ ধসে পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্নেও খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। খবর পেয়ে দুপুরেই মেদিনীপুর থেকে নির্বাচনী জনসভা বাতিল করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ঘটনায় নিহতদের জন্য পাঁচ লাখ রুপি করে সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আহতদের তিন লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অল্প আহতদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে এক লাখ রুপি।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ফ্লাইওভারের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে এ পর্যন্ত ২৩ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে ৭০ জনকে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ধসেপড়া ফ্লাইওভারের নিচে এখনো অনেকে আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলছে। তবে চাপা পড়ে থাকা মানুষজনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যথেষ্ট কম বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারের কাজে নেমেছে প্রায় ৪০০ সৈন্য। ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশ কুকুর। ঘটনাস্থলে রয়েছে মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। ধসেপড়া ফ্লাইওভারের নিচে যাত্রীবাহী ট্যাক্সি এবং বাস আটকে রয়েছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার পর ফ্লাইওভারের বাকি অংশে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরই এই ফ্লাইওভার নির্মাণকারী কোম্পানি ‘আইভিআরসি ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি’র কলকাতার কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে এই কোম্পানির হায়দ্রাবাদের কর্মকর্তা কে পি রাও বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এই ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। ফ্লাইওভারের ৪৫ শতাংশ কাজ বাকি ছিল।’ এ দুর্ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১৬৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্ল্যানটি ২০০৭ সালে পাস হয়। তারপর ২০০৯ সালে বাম সরকারের আমলে এই ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ওই সংস্থার কাজে নানা অভিযোগ পাওয়ার পর সংস্থার কাছে তৃণমূল সরকার বারবার প্ল্যান চায়। কিন্তু সংস্থাটি প্ল্যান দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত সাজা দেওয়া হবে। আমরা আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছি। এ ছাড়া আহতদের যাবতীয় চিকিৎসার ভার পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেবে।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে রাজনীতি না করা হয় তার অনুরোধও জানান মমতা।
ফ্লাইওভার ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী, বিজেপি নেত্রী ও অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও।

কলকাতা সংবাদদাতা