বিহারে হঠাৎ মদ নিষিদ্ধ, হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৯ জন
ভারতের বিহার রাজ্যে হঠাৎ মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৯ জন।
মদ খেতে না পেয়ে কেউ খাচ্ছেন কাঁচা মরিচ, কেউ চিবোচ্ছেন কাগজ ও সাবান, আবার কেউ খাচ্ছেন ব্যথানাশক ওষুধ। কেউ আবার নিজের স্ত্রী সন্তানদের চিনতে পারছেন না। এসব কাণ্ডই ঘটছে রাজ্যটিতে।
গত মঙ্গলবার থেকে দেশি মদ নিষিদ্ধ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। এ কারণে গোটা রাজ্যে মদের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। মদ না পেয়ে বিহারের বেশ কিছু মন্দিরেও পূজা বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিহারের ডাক বাবা, মাসান বাবা, গোরাইয়া বাবার মতো বেশ কিছু মন্দিরে প্রতিদিন দেশি মদ খেয়ে পূজা দিতেন স্থানীয় দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু নীতিশ কুমারের সরকার বিহারে দেশি মদ বন্ধ ঘোষণা করায় মন্দিরগুলোতে পূজা দিতে পারছেন না স্থানীয়রা। ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে ওই মন্দিরগুলো।
হঠাৎ মদ না পেয়ে অনেকের মধ্যে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৯ জন। পরিস্থিতির আঁচ করতে পেরে আগেই বিহারের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে ৩৮টি মাদক নিরাময় কেন্দ্র খুলেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষিত ১৫০ জন চিকিৎসক এবং ৪৫ জন কাউন্সিলরকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিহারের মেডিকেল কলেজে খোলা হয়েছে মাদক নিরাময় কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।
গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রতিদিন ৬০০ থেকে ১২০০ মিলিলিটার মদ খেয়েছেন। হঠাৎ মদ খেতে না পেয়ে তিনি তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যকে চিনতে পারছেন না। আওরঙ্গবাদ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. আর কে সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তিকে যখন কেন্দ্রে আনা হয়, তখন তিনি ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না।’
একটি টেলিভিশন চ্যানেল দেখানো হয়, বেত্তিয়াহ জেলায় এক ব্যক্তি মদ না পেয়ে সাবান খাচ্ছেন। কয়েকটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র জানিয়েছে, অনেকেই পেপার ও ব্যথানাশক ওষুধও খাচ্ছেন।

কলকাতা সংবাদদাতা