ভোটের আগেই মমতা পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন : মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভোটের আগেই হেরে বসে আছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি এখন পরাজয়ের খাদে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে।
আজ রোববার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে ভোট চলাকালীন রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি এভাবেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন।
নদীয়া জেলা সদর কৃষ্ণনগরের গভর্মেন্ট কলেজের মাঠে বিজেপির এক নির্বাচনী জনসভায় মোদি বলেন, ‘মমতা তো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লড়াই করছেন বলে মনে হচ্ছে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে লড়াই করছেন।’ এ সময় তিনি মমতাকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে মর্যাদা দেওয়া উচিত। আচরণ বিধি না মানার জন্য মমতাকে নোটিশ পাঠিয়েছিল কমিশন। কিন্তু তার উত্তর দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। অথচ উত্তর দেওয়া উচিত ছিল মমতা দিদি বা তৃণমূলকে।’
নির্বাচন কমিশনকে হুমকি দিয়ে মমতার বক্তব্যের প্রতিবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা দিদি পরোক্ষভাবে কমিশনকে হুঙ্কার দিয়েছেন, ১৯ মে’র পর দেখে নেব। অন্য কিছু না দেখে মানুষের দুর্দশা দেখলেই মমতা ভালো করতেন। পাঁচ বছর ধরে মমতা দিদির উচিত ছিল মানুষের দুর্দশা দেখা।’ তিনি মমতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, গণতন্ত্রে আপনার আস্থা আছে তো?
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সরকারের অপব্যবহার করছেন মমতা। ক্যামেরার সামনে বাংলার ভবিষ্যৎ বিক্রির চেষ্টা চলছে। দেশজুড়ে সবাই দেখেছে নারদ স্টিং কাণ্ড থেকে সারদা কাণ্ড। আপনি আজ দলে যাদের বড় বড় লোক বলে মানেন, তাঁরাই আজ দুর্নীতিতে নারদ কাণ্ডে ক্যামেরার সামনে উঠে এসেছেন। অথচ এই ধরনের কাণ্ডে যদি বামপন্থী নেতা কিংবা অন্য দলের নেতাদের দেখা যেত তাহলে কি আপনি তদন্ত করতেন না? সমালোচনা করতেন না? এ আপনার কেমন পরিবর্তন দিদি?’
মোদি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আজ ভয়ঙ্করভাবে সিন্ডিকেট রাজ শুরু করেছে তৃণমূল। কলকাতার বিবেকানন্দ উড়ালপুল বিপর্যয়ের নেপথ্যে সিন্ডিকেট কালচার ছিল।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনের প্রতি সম্মান করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্যই ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ছয় বছরের জন্য সরে যেতে হয়েছিল।’
মমতার পাশাপাশি বাম-কংগ্রেস জোটকে আক্রমণ করে মোদি বলেন, ‘বাংলায় দোস্তি আর কেরল রাজ্যে কুস্তি কেন? ক্ষমতা থাকলে কেরলেও দোস্তি করুন। এদিন কৃষ্ণনগরে সভা শেষ করে নরেন্দ্র মোদি কলকাতার ধর্মতলা চত্বরেও একটি সভা করেন।’

কলকাতা সংবাদদাতা