তেল রপ্তানি ছাড়া কতদিন কাটাতে পারবে ইরান
যুদ্ধের ডামাডোলে অস্থির হয়ে উঠেছে তেলের বাজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে দাম। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে না পেরে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে ইরান। তবে তেল রপ্তানি না করেই ইরান স্বচ্ছন্দে আগামী দুমাস কাটিয়ে দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা করে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা চীনের কাছে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে ইরান। তবে মার্কিন অবরোধের কারণে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইরানের উৎপাদন বন্ধ হলে বিশ্ব বাজার দৈনিক এক কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেলের সরবরাহ হারাবে। এতে বাজারের অবস্থা আরও খারাপ হবে আর তেলের দাম চড়া হতে থাকবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রপ্তানি অবরুদ্ধ হলে ইরানকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল স্টোরেজ ট্যাংক বা সংরক্ষণাগারে রাখতে হতে পারে। যখন এই সংরক্ষণাগারগুলো ভরে যাবে তখন উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে দেশটি।
শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সট্যান্টইসিএ এর হিসাব অনুযায়ী, স্থলের সংরক্ষণাগারগুলোতে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রাখার সক্ষমতা আছে ইরানের আর মোট ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল।
এক নোটে এফজিই নেক্সট্যান্টইসিএ জানায়, বর্তমানের ইরানের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল। কোনো রপ্তানি না করেই দেশটি প্রায় দুই মাস এই উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে। আর দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হ্রাস করলে এটি তিন মাস পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবে।
ইরানের তেল শোধনাগারগুলো দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করে বলে তারা জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয় এসব বিষয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
পরিবেশগত গোয়েন্দা তথ্য ও ভূ-বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কাইরোসের তথ্যের ভিত্তিতে জ্বালানি বাজার বিষয়ক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টসের অনুমান, ইরানের স্থলভিত্তিক সংরক্ষণাগারগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম, প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল।
প্রায় ৩ কোটি ব্যারেলের হিসাব ধরে এই চিত্র অনুযায়ী, সংরক্ষণাগারগুলো ভরে যাওয়ার আগে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল রপ্তানি হারের ভিত্তিতে ইরান প্রায় ১৬ দিন বর্তমান রপ্তানি স্তর বজায় রাখতে পারবে।
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ বলেছেন, এই অবরোধ এপ্রিলে ইরানের উৎপাদনে সম্ভবত উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না, কিন্তু এটি যদি মে মাসেও চলতে থাকে তাহলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক