ভোটিং মেশিনে পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল নির্বাচন কমিশনকে পাশ কাটিয়ে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোটিং মেশিনে পরিবর্তন আনার উপায় খুঁজছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার আগে কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চলেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, নির্বাচন কমিশন ভোটিং মেশিনের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা হালনাগাদ করতে ধীরগতিতে কাজ করায় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট ছিলেন। পাশাপাশি ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধনের জাতীয় ফরমে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা এবং প্রশাসনের অন্যান্য নির্বাচনি অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের চাপও ছিল। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ট্রাম্প কমিশনের দুই ডেমোক্র্যাট কমিশনারকে বরখাস্ত করেন। একই সময়ে একমাত্র রিপাবলিকান কমিশনার পদত্যাগ করেন। এর আগে এপ্রিলে চতুর্থ কমিশনারও দায়িত্ব ছাড়েন। ফলে বর্তমানে কমিশনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোরাম নেই এবং নতুন কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপকে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন।
সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, এটি ভোট গ্রহণের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি স্পষ্ট চেষ্টা। স্বাধীন নির্বাচন সংস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।
তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসন শুরু থেকেই নির্বাচন জালিয়াতি ও অনিয়ম রোধে বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ দিকে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক দপ্তর একটি প্রস্তাব দেয়, যাতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে একটি ফেডারেল টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়। এই টাস্কফোর্স নির্বাচন কমিশনকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যকে ভোটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা দুর্বলতা দূর করতে বাধ্য করতে পারত। যদিও সেই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভোটিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প এখনও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছিল— এমন দাবি করে আসছেন, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটিং প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এবং নীতিমালা পরিবর্তনের আগে বিস্তৃত পর্যালোচনা ও জনমত নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাজ স্বাভাবিকভাবেই সময়সাপেক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে কমিশন নির্বাচন পরিচালনা উন্নয়নে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান বিতরণ করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক