একটা গরুও বাংলাদেশে যেতে দেব না : রাজনাথ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যদি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্তি বাড়ে, তাহলে একটি গরুও বাংলাদেশে পাচার হতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রচারে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্ত এলাকা বসিরহাট এবং বনগাঁ অঞ্চলে এসে এ কথা বলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ থেকে যারা বাধ্য হয়ে ভারতে গিয়েছেন তাদের আশ্রয় ও নাগরিকত্ব দেবে তাঁর সরকার।
গত কয়েক মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হাইকমিশনার আমাদের জানিয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধ হয়েছে বলে সেখানে গরুর দাম বেড়ে গিয়েছে। তাই কথা দিয়ে যাচ্ছি, আপনারা এবারের নির্বাচনে আমাদের (বিজেপি) প্রার্থীদের জিতিয়ে শক্তি বাড়ান, তাহলে দেখবেন ভবিষ্যতে একটা গরুও পাচার হতে দেব না।’
‘বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেব’
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে ভারতে চলে আসা নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একটি আদেশ জারি করেছি। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যারা বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে ভারতে চলে এসেছেন, তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেব আমরা। পাসপোর্ট ছাড়া যাঁরা এসেছেন, তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেব আমরা। বিগত দিনের আইন ও নিয়মকে পরিবর্তন করে বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে ভারতে চলে আসা মানুষদের ভারতীয় নাগরিক বানাবই আমরা। আজ কথা দিয়ে যাচ্ছি আমি।’
রাজনাথ সিং বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ আসেন। বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে চলে আসা মানুষদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবই আমরা।

‘শিল্প না থাকলেও বোমাশিল্প আছে’
এদিন রাজনাথ পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প-কলকারখানা না থাকলেও এখানে বোমাশিল্প আছে। আমরা যদি ক্ষমতায় আসি, তাহলে এ রাজ্য থেকে বোমা বানানোর সাহস পাবে না কেউ। গত পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গের মা-মাটি মানুষের সরকারের কেউ সুরক্ষিত নন। নারদা ও সারদাকাণ্ডে জর্জরিত তৃণমূল সরকার।
‘এখন ভোটের আগে তৃণমূল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। তাই বিজেপিকে শক্তিশালী করুন আপনারা। আপনার এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাই বিজেপির হাতকে শক্তিশালী করুন।’
তৃণমূলের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী রাজনৈতিক সিপিএমকে আক্রমণ করে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৩৪ বছরে এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি। গত পাঁচ বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। ৩৪ এবং ৫, মোট ৩৯ বছরে পশ্চিম বাংলা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। আজ এখানে গ্রামেগঞ্জে রাস্তাঘাট নেই, খাবার পানি নেই, হাসপাতাল নেই, ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই, কিন্তু মদ পাওয়া যায় সর্বত্রই। আজ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভুল ভেঙেছে। তাঁরা বুঝতে পারছেন তাঁরা ঠকেছেন। সিপিএম গরিব-মজদুরের পার্টি বলে নিজেদের দাবি করলেও গরিবদের উন্নয়নে কিছু করেনি। তৃণমূলও ক্ষমতায় আসার আগে গরিবদের দেখবে বলে কথা দিলেও সে কথা তারা রাখেনি। তাই এবার দরকার বিজেপি সরকার।’
এদিন রাজনাথ কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ভারতকে শৃঙ্খলামুক্ত করতে লড়াই করেছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। কিন্তু স্বাধীনতার পর তিনি নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে নেতাজি অন্তর্ধানকাণ্ডের ফাইল সামনে এনেছি। অনেক ফাইল গায়েব হয়ে গেছে। সেই গায়েব হওয়া ফাইলগুলোর জন্য জবাব দিতে হবে কংগ্রেসকে।’

মনোজ বসু, কলকাতা