থানায় অভিযোগ জানাতে এসে করতে হলো জুতা পালিশ
মোবাইল চুরির অভিযোগ করতে থানায় গিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ তাঁর অভিযোগের কোনো সুরাহা করেনি, কিন্তু তাঁকে দিয়ে জুতা পালিশ করিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মুজাফ্ফরনগরের চরথাবল থানায়।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে জানা গেছে, মোবাইল হারানোর পর থানায় অভিযোগ জানাতে যান সিত্তু নামের ওই ব্যক্তি। কিন্তু থানায় উপস্থিত কর্মকর্তারা তাঁকে বলেন, মোবাইল চুরির অভিযোগ লেখানোর সময় তাঁদের নেই। তা ছাড়া অভিযোগ লেখালেই কি মোবাইলটি পাওয়া যাবে?
কিন্তু নাছোড়বান্দা গরিব সিত্তু অনুনয় বিনয় করতে থাকেন। বলেন, ‘স্যার, আমি গরিব মুচি। আমার কাছে অন্য মোবাইল ফোন নেই। তা ছাড়া হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি নিয়ে কেউ কোনো খারাপ কাজ করলে আমি বিপদে পড়তে পারি।’ এই কথাটি শোনার পরই এক পুলিশকর্মী তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কী বললি, মুচি?’ হ্যাঁ বলার সঙ্গে সঙ্গেই ওই পুলিশকর্মী তাঁর জুতোজোড়া এগিয়ে দেন পালিশ করার জন্য। কিন্তু সঙ্গে পালিশের জিনিস না থাকায় তিনি আবার বাড়িতে আসেন পালিশের সরঞ্জাম আনার জন্য।
এরপর পালিশের সরঞ্জাম এনে পালিশ করতে শুরু করলে থানার প্রায় সব পুলিশকর্মীই একে একে তাঁদের জুতো এনে দিতে শুরু করেন। জুতোর পাহাড় তৈরি হয় যায় সিত্তুর সামনে। ওই পরিমাণ জুতো দেখে সিত্তু আপত্তি জানালে, তাঁর রিপোর্ট না লেখার হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, সব জুতো পালিশ না হলে, তাঁর মোবাইল হারানোর রিপোর্ট লেখা হবে না। শেষে আড়াইঘণ্টা ধরে বিনা পারিশ্রমিকে জুতো পালিশ করতে হয় সিত্তুকে।
এদিকে পুরো ঘটনাটির ক্যামেরাবন্দি করেন, থানায় অভিযোগ করতে আসা একজন। পরে তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে ওই ভিডিওটি দেন।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে উত্তরপ্রদেশসহ পুরো ভারতে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও মন্তব্য করছেন অনেকেই।
কিন্তু খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ জানানোর মতো হিম্মত গরিব মুচির নেই। এএনআইয়ের কাছে সিত্তু জানান, লোকে তাঁকে বলে যাচ্ছে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মীদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে। কিন্তু সিত্তু ভীত তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে। পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট লেখালে অঘটন কিছু ঘটে যেতে পারে বলেই তাঁর আশঙ্কা।

অনলাইন ডেস্ক