কাশ্মীরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ দাবি
ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে গত ১০ দিন টানা অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে কাশ্মীর-বিতর্কে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রবীণ নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে খোলা চিঠি লিখে তিনি কাশ্মীরে তাঁদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এবং বলেছেন, কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতেই এটা দরকার।
বিবিসি বাংলা জানায়, হুরিয়তের এই নেতা একই ধরনের চিঠি লিখেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), সার্ক, আসিয়ানের মতো জোটকে এবং বেইজিং ও তেহরানকেও।
তবে ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাশ্মীর-ইস্যুর আন্তর্জাতিকীকরণের এই চেষ্টা এখন সফল হওয়া কঠিন এবং কাশ্মীরে গণভোটের দাবিও ভারত কোনোমতেই মানবে না। গত ৭০ বছর ভারতের বক্তব্য, কাশ্মীর বিতর্কের সমাধান করতে হবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্তরে—তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি কাশ্মীরের মানুষের কোনো ভূমিকাও দিল্লি সেখানে মানতে প্রস্তুত নয়।
কিন্তু সৈয়দ আলি শাহ গিলানির মতো হুরিয়ত নেতারা এখন সরাসরি বলছেন, কাশ্মীরের এ লড়াই তাঁদের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই।
নিহত জঙ্গি বুরহান ওয়ানিকে নির্ভীক ও সাহসী যোদ্ধা বলে উল্লেখ করে বর্ষীয়ান নেতা গিলানি বলেছেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী যাই বলুন, বুরহান দেশদ্রোহী নয়, বরং কাশ্মীরের অধিকার অর্জনে এক নিবেদিত সেনা। যে আরো প্রায় ছয়শ কাশ্মীরি শহীদের মতো দেশের ‘আজাদি’র জন্য প্রাণ দিয়েছে।”
আর কাশ্মীর যাতে সেই আজাদি পায়, সে জন্য গিলানি এখন সরাসরি সাহায্য চেয়েছেন জাতিসংঘ ও বিশ্বের প্রায় সব প্রভাবশালী শক্তির কাছে। অনুরোধ জানিয়েছেন, কাশ্মীর থেকে ভারতীয় সেনাকে সরাতে আর কাশ্মীরিদের নিজেদের ভবিষ্যৎ স্থির করার অধিকার দিতে জাতিসংঘ আর এসব শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।
তবে কাশ্মীর-বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অধ্যাপক অশ্বিনী রায় মনে করছেন, এ আবেদনে এখন সাড়া মেলাটা মুশকিল। তিনি বলছেন, ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব এখন ইসলামিক স্টেটের বিপদ নিয়ে এতটাই চিন্তিত যে তাদের কাশ্মীর নিয়ে খুব একটা এখন উৎসাহ দেখা যাবে বলে মনে হয় না। কাশ্মীরের জঙ্গিবাদ যত বেশি ইসলামী চেহারা নেবে, ততই কিন্তু পাকিস্তানের পশ্চিমা বন্ধুরা কাশ্মীর প্রশ্নে বেশি সাবধান হয়ে পড়বে।’
তবে কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথা বলে সৈয়দ আলি শাহ গিলানি নতুন করে কাশ্মীরে গণভোটের পুরোনো দাবিকে জিইয়ে তুলেছেন। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ যে প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিল। ভারত কিন্তু পরে সেই গণভোটের অঙ্গীকার থেকে সরে আসে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি কিছুতেই কাশ্মীরে গণভোট মানবে না বলেই অশ্বিনী রায়ের ধারণা।
তাঁর ধারণা, কাশ্মীর উপত্যকায় এখন যেভাবে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে, তাতে হুরিয়ত নেতারা এখন একটা মরিয়া চেষ্টা করতে চাইছেন, যাতে আবার কাশ্মীরের দিকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের মনোযোগ ফেরানো যায়!

অনলাইন ডেস্ক