সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বসছে বাংলাদেশ-ভারত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ২৮ জুলাই বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠক শুরু হবে। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর মধ্যে প্রাধান্য পাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার যৌথ সহযোগিতা নিবিড় করার আলোচনা।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বৈঠকের কথা জানানো হয়। এই বৈঠকের জন্য বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ২৭ জুলাই বিকেলে দিল্লি যাবেন।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল তিনদিন ভারতে থাকবে। দ্বিক্ষীয় বৈঠক শেষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন ভারতীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ হতে পারে।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দত্তাওয়ালিয়া বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব মেহর্ষি, উত্তর-পূর্ব ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব সত্যেন্দ্র গর্গ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ডিজি এ কে শর্মা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশবিষয়ক যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথনও থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠকের আলোচ্যসূচির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণে স্বাক্ষরিত চুক্তির সংশোধন। দুই দেশের মধ্যে সহজে অপরাধীদের হস্তান্তরের লক্ষ্যে এই সংশোধন করা হতে পারে। এখন অপরাধী হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
এ ছাড়া এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন সহজে ভিসা দেওয়ার যে সাময়িক ব্যবস্থা চালু করেছিল, তা নিয়মিত করা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে সন্ত্রাস মোকাবিলা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অপরাধের বিষয়টিও আলোচনায় উঠবে।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের তরফে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি তালিকা ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। সন্দেহভাজন এই জঙ্গিরা দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে লুকিতে রয়েছে বলে সন্দেহ করছে বাংলাদেশ।

কলকাতা সংবাদদাতা