মন্দিরে কচ্ছপ, অবতার মেনে পূজা
পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন স্বয়ং কচ্ছপ অবতার! এই বিশ্বাসে একটা কচ্ছপকে ঘিরে রীতিমতো মানুষের ঢল নেমেছে মন্দিরে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে ওই কচ্ছপকে ঘিরে চলছে পূজা-অর্চনা।
বসিরহাটের উত্তর বাগুন্ডি গ্রামে স্থানীয় একটি প্রাচীন কালী মন্দিরে আজ সোমবার সকালে কচ্ছপটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। কচ্ছপটির সারা শরীরে সিঁদুর লাগানো ছিল। যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস জন্মায়, কচ্ছপটি নিশ্চয়ই ঈশ্বরের অবতার। এর পরই সেই কচ্ছপকে ঘিরে শুরু হয়ে যায় রীতিমতো পূজা-অর্চনা। দলে দলে নারী পুরুষ ওই কচ্ছপকে দেখতে এসে ভিড় জমাতে শুরু করে বসিরহাটে উত্তর বাগুন্ডি এলাকার প্রাচীন কালী মন্দিরে। কেউ ভোগ-বাতাসা হাতে নিয়ে, কেউ ফুল-বেলপাতা-সিদুর নিয়ে কচ্ছপের পূজা দিতে হাজির হয়ে যায়। কেউবা রোগ মুক্তির আশায় কচ্ছপটির পা ধোয়া পানি খেতে শুরু করে দেয়। কচ্ছপ ঘিরে রীতিমতো দূর-দূরান্তের মানুষের ঢল নেমে যায় ওই গ্রামে।
স্থানীয় মানুষজনের বিশ্বাস, ঈশ্বর স্বয়ং কচ্ছপের রূপ নিয়ে এই কালী মন্দিরে অধিষ্ঠান হয়েছে। সাড়ে সাত কেজি ওজনের কচ্ছপকে নিয়ে এ দিন বেলা যত গড়াতে থাকে ততই নানা প্রচার ছড়িয়ে পড়তে থাকে বিভিন্ন এলাকায়।
কালী মন্দিরে আশ্রয় নেওয়া কচ্ছপটি আসলে কচ্ছপ রূপী ঈশ্বরের আবির্ভাব- এই বিশ্বাস নিয়ে মন্দির কমিটির সম্পাদক তপন ঘোষ জানান, আজ সকালেই গায়ে সিঁদুর মাখা কচ্ছপটিকে মন্দিরে কালী বিগ্রহের পাশে দেখা যায়। এটা দৈব ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের এই ভাবনাকে খণ্ডন করে দিয়ে বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য রণজিত মুখার্জি জানান, সাধারণত কচ্ছপ ৫০০ থেকে ৬০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এই কচ্ছপটিকে ঘিরে যে ধরনের রটনা রটছে তার পুরোটাই কুসংস্কার। দৈব কচ্ছপ বলে কিছু হয় না। কচ্ছপটি ভগবানের কোনো অবতারও নয়। এই কচ্ছপের কৃপায় রোগমুক্তিও সম্ভব নয়। এটা কেউ চালাকি করে কচ্ছপটির গায়ে সিঁদুর লেপে রাতের অন্ধকারে কালী মন্দিরে ঢুকিতে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অবিলম্বে কচ্ছপটিকে বন অধিদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।
তবে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কচ্ছপটিকে ঘিরে পূজা-অর্চনা আর রোগমুক্তির আশায় কচ্ছপটির পা ধোয়া পানি খাওয়ার ভিড় লেগেই ছিল।

কলকাতা সংবাদদাতা