৩১ বাংলাদেশি জেলেকে উদ্ধার করল ভারতের কোস্টগার্ড
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে এসে বিপদে পড়া ৩১ জন বাংলাদেশি জেলেকে উদ্ধার করেছে ভারতের কোস্টগার্ড।
জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ‘আল্লাহর দান’ ও ‘ফরহাদ’ নামের বাংলাদেশি জেলেদের দুটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় মাঝ সমুদ্রে বিপদে পড়েন দুটি ট্রলারে থাকা ৩১ জন জেলে। এরপর মাঝ সমুদ্র থেকে ভাসতে ভাসতে ভারতের অংশে ঢুকে পড়েন জেলেরা। একদিন পর ‘আল্লাহর দান’ ট্রলারের ১৫ জন জেলেকে উদ্ধার করেন ভারতের কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁদের নৌযানে তুলে নিয়ে আসেন।
পরের দিন ১৬ জন জেলেসহ বাংলাদেশের ট্রলার ফরহাদকে ভাসিয়ে নিয়ে আসা হয় ভারতের সুন্দরবন লাগোয়া ফ্রেজারগঞ্জে। এরপর উদ্ধার করে আনা ৩১ জন বাংলাদেশি জেলেকে ভারতের উত্তর-পূর্ব কোস্টগার্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে রেখে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের বিকল হয়ে যাওয়া ট্রলার দুটির ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত শেষ হলে তাদের ট্রলারসহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি জেলেদের অধিকাংশের বাড়ি দেশটির পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাঝ সমুদ্রে বাংলাদেশি ট্রলার দুটির যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে তারা ভাসতে ভাসতে ভারতের সমুদ্র সীমায় ঢুকে পড়ে। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা চিৎকার শুরু করেন এবং লাল কাপড় নেড়ে বিপদ সংকেত জানাতে থাকেন।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের একটি ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীদের কাছের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশি ট্রলারের বিপদের কথা জানতে পারি। তারপরই তাঁদের উদ্ধারের জন্য প্রসাশনকে জানাই আমরা। এর পরই ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।’
বাংলাদেশি জেলেদের উদ্ধারের বিষয়ে ভারতের কোস্টগার্ডের মহাপরিদর্শক কে আর নওটিয়াল বলেন, ‘সমুদ্রের যে অংশ বিপজ্জনক আমরা সেদিকে সবসময়ই নজর রাখছি। মাঝ সমুদ্রে গিয়ে কেউ বিপদে পড়লে তাদের সাহায্যের জন্য আমরা সর্বদা তৈরি থাকি।’
এদিকে গত ১৭ আগস্ট শতাধিক জেলেসহ ১২টি ট্রলার নিখোঁজের খবর এনটিভি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। ওই ট্রলারগুলোর মধ্যে ১০টি ট্রলারের জেলেরা পরে অন্য জেলেদের সহায়তায় উপকূলে ফিরে এলেও দুটি ট্রলার ও তাদের জেলেদের এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কলকাতা সংবাদদাতা