ভারতজুড়ে চলছে শ্রমিক ধর্মঘট
কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমনীতির বিরুদ্ধে ভারতে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট চলছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কাজের সময় নির্ধারণ, শ্রমিক নিরাপত্তাসহ ১৪ দফা দাবিতে এই হরতালের ডাক দিয়েছে বাম এবং অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন।
দেশটির বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে এই ধর্মঘট চললেও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু স্থান থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে হরতালের সমর্থনে মিছিল করার অভিযোগে শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য, সিপিআইএম নেতা জীবেশ সরকারসহ প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ভারতের বাম শাসিত ত্রিপুরা ও কেরালা রাজ্যে এই ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া তামিলনাড়ু, উড়িষ্যা, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা রাজ্যেও হরতালের প্রভাবের খবর পাওয়া গেছে। কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। এ কারণে এ রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, অফিস বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় যথেষ্ট কম। তবে বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, হরিয়ানা ও আসামসহ অন্যান্য রাজ্যগুলোতে এখনো পর্যন্ত ধর্মঘটের কোনো প্রভাব পড়েনি।
ধর্মঘটের কারণে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব রেলে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন চলাচল। উড়িষ্যার ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর, জলেশ্বর, ভদ্রক, কেওনঝড় ও সোরো স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিমান চলাচলে ধর্মঘটের প্রভাব সেভাবে না পড়লেও বিমানবন্দরের বাইরে ট্যাক্সিচালকরা অনেকেই এই ধর্মঘটের শামিল হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বিপাকে পড়েছেন বিমানযাত্রীরা।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আজ সকালে ধর্মঘট সমর্থনকারী একদল নার্সকে আটক করে পুলিশ। তবে দিল্লি ও বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ধর্মঘটে পশ্চিমবঙ্গের জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। কলকাতার বিভিন্ন স্থানে প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কলকাতার যাদবপুর এলাকায় ধর্মঘটকারীদের সঙ্গে বিরোধীদের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামে ধর্মঘট সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়েছে। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল করার অভিযোগে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য, সিপিআইএম নেতা জীবেশ সরকারসহ প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়। কোচবিহার থেকে শিলিগুড়িগামী দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়। তবে দক্ষিণবঙ্গের হলদিয়া, দুর্গাপুর ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কাজকর্ম স্বাভাবিক রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে অফিস, স্কুল-কলেজ, ব্যাংক খোলা রয়েছে।
এদিকে আজ সকালে রোমের ভ্যাটিকান সিটিতে মাদার তেরেসাকে সেন্ট হুড উপাধি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতা ছেড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে মমতা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘এই ধর্মঘট সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। আমি সারা দিন মনিটর করব। তা ছাড়া রাজ্য প্রশাসন ও মন্ত্রীসহ সবার ওপর দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে। আমরা সবার কাছে আর্জি জানাব, এই ধর্মঘটকে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাকে সচল রাখুন।’

কলকাতা সংবাদদাতা