ভারতে নোট বাতিলে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করার সিদ্ধান্তে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এর ফলে বিভিন্ন এটিএম কাউন্টার ও পেট্রোল পাম্পের বাইরে লম্বা লাইন দেখা যায়।
আজ বুধবার সকাল থেকেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বেচাকেনা কার্যত শিকেয় উঠেছে। নরেন্দ্র মোদির এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পুরনো ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরছেন অনেকে।
কেউই পুরনো নোট নিতে চাইছে না। ফলে কেনাকাটা করতে না পেরে অনেকেই বাড়ির পথ ধরতে বাধ্য হচ্ছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানে পুরনো ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দোকান মালিকরা পুরনো নোট নিচ্ছে না।
আজ ব্যাংক ও এটিএম বুথ বন্ধ থাকায় বিভ্রান্তি চূড়ান্ত আকার নিয়েছে। ফলে পুরনো নোট পরিবর্তন করার কোনো উপায় পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের ব্যাংক ও পোস্ট অফিস থেকে পুরনো নোট বদলানো যাবে। সেক্ষেত্রে বাহককে অবশ্যই ব্যাংক নিজের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
অন্যদিকে, ভারতে আসা বিদেশী পর্যটকেরা এই নির্দেশিকা জারির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ হাজার রুপির সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা বিমানবন্দর কিংবা মানি এক্সচেঞ্জ বুথ থেকে কিনতে পারার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রেও অনেকে হয়রানি শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি পাঁচ হাজার রুপির উপরে ভারতীয় মুদ্রা পরিবর্তন করতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন অনেক বিদেশি পর্যটক।
বিশেষ করে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে পথের মানি এক্সচেঞ্জ গুলিতে লম্বা লাইন দেখা যায়।
অভিযোগ উঠেছে, পুরোনো নোট ভাঙ্গাতে গিয়ে কেউ কেউ বাড়তি অর্থও দাবি করেছেন। এদিকে পুরনো ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন ১০০ রুপির নোটের চাহিদা বেড়েছে।
মোদি সরকার আগামী দুই দিনের মধ্যে বাজারে নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নতুন নোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

মনোজ বসু, কলকাতা