দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘শত্রু’ আখ্যা দিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান কিমের
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সিউলের পক্ষ থেকে নেওয়া শান্তি আলোচনা ও সমঝোতার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম (কেসিএনএ) জানিয়েছে, কিম দক্ষিণ কোরিয়াকে তাঁর দেশের ‘সবচেয়ে প্রতিকূল’ শত্রু হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে উভয় দেশের যেকোনো ধরনের আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।
পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসের সমাপনী বক্তব্যে কিম জং উন ঘোষণা করেন, “দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমাদের একেবারেই কোনো লেনদেন করার প্রয়োজন নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের সঙ্গে সীমানা থাকার ভূ-রাজনৈতিক শর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না, ততক্ষণ নিরাপদে থাকার একমাত্র উপায় হলো আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছু ত্যাগ করা। আমাদের একা থাকতে দেওয়া।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া তাদের সংবিধানে দক্ষিণ কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ নীতি
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং ক্ষমতায় আসার পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি আগের প্রশাসনের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে মানবিক সহায়তা পাঠানো এবং ড্রোন প্রচারণা বন্ধ করার মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমনকি গত বছর সিউল একটি আইন পাস করেছে যাতে উত্তর কোরিয়ায় বেলুন পাঠিয়ে প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কিম জং উনের এই কঠোর বার্তার পর দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। সিউল জানিয়েছে, তারা উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। উভয় পক্ষকে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, কিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কিছুটা নমনীয় সুর দেখিয়ে বলেছেন, যদি ওয়াশিংটন তাদের ‘শত্রুতামূলক নীতি’ ত্যাগ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর সামরিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং আগামী এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের দিকে তাকিয়ে আছেন। দক্ষিণ কোরিয়াকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেনদরবার করাই এখন পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান কৌশল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক