বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের আঁচ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপও। ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সাইপ্রাসের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিক ও স্বার্থ রক্ষায় অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। খবর আল জাজিরার।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জানিয়েছে, তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে রয়্যাল নেভির অন্যতম শক্তিশালী ধ্বংসকারী জাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ ও দুটি ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার মোতায়েন করছে। সি ভাইপার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় সজ্জিত এই জাহাজটি মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও একই সঙ্গে ১৬টি লক্ষ্যবস্তু পরিচালনা করতে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, সাইপ্রাস ও সেখানে নিয়োজিত ব্রিটিশ কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুরুতে যুদ্ধে জড়াতে অনীহা দেখালেও, স্টারমার শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে ‘নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছে না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাঁর দেশের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘চার্লস ডি গল’-কে বাল্টিক সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে সরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি রাফালে যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বায়ুবাহিত রাডার সিস্টেম মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছেন।
ম্যাক্রোঁ জানান, সাইপ্রাসের সঙ্গে নতুন কৌশলগত চুক্তির অংশ হিসেবে ফরাসি ফ্রিগেট ‘ল্যাঙ্গুয়েডক’ আজ বিকেলেই সাইপ্রাস উপকূলে পৌঁছাবে। এই সামরিক তৎপরতার মূল কারণ সোমবার (২ মার্চ) ভোরে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটি ‘আক্রোতিরি’-তে ইরানের তৈরি একটি ‘শাহেদ’ ড্রোনের আঘাত। সাইপ্রাস সরকারের মতে, ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়ে সামরিক স্থাপনার সামান্য ক্ষতি করেছে।
তবে আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার পর লিমাসল শহর থেকে প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শহরে বিমান হামলার আগাম সতর্কবার্তা বা সাইরেন ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় পৌর বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১১০০ জন নিহত হয়েছেন। এর বিপরীতে ইরানও সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতের বিভিন্ন লক্ষ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী জর্ডান, ইরাক ও কাতারের আকাশে বেশ কিছু ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে সহায়তা করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল একটি ভয়াবহ মানবিক ও সামরিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক